পুবের কলম, নয়াদিল্লি: উত্তরাখণ্ডের হলদ্বানীতে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভার পর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির তথাকথিত 'শুদ্ধিকরণ' আচার পালনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গঙ্গা জল ছিটিয়ে সভা প্রাঙ্গণ 'পবিত্র' করার এই ঘটনাকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে সংসদে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন খাড়গে। কংগ্রেস নেতা রাজ্যসভায় বক্তব্যে বলেন, হলদ্বানীর ঘটনা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অপমানিত করেছে এবং জীবনের এই পর্যায়ে এসেও তাঁকে অস্পৃশ্যতার দংশন অনুভব করিয়েছে। তিনি বলেন, "আমি কোনোদিন কাউকে বলিনি যে আমি দলিত, তাই আমাকে রক্ষা করুন, কিংবা কারও কাছে হাত পাতিনি। আমার লড়াই করার সামর্থ্য আছে এবং আমি তা করে যাচ্ছি।
"সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মল্লিকার্জুন খাড়গে মন্তব্য করেন, "আমরা বরাবরই বলে আসছি যে এই দেশে দলিতদের কোনো জায়গা দেওয়া হচ্ছে না।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, রামলীলা ময়দানের মতো একটি সর্বজনীন জায়গা—যা সমস্ত রাজনৈতিক দল ব্যবহার করে থাকে—সেখানে কেন এমন আচার অনুষ্ঠান করা হলো? এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে হিন্দু ধর্মের মূল চেতনার পরিপন্থী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এটি দেশজুড়ে জাতিভেদ উস্কে দেওয়ার এবং বিভাজন তৈরির একটি চক্রান্ত।
ঘটনার পর বিজেপি এবং আরএসএস-এর আদর্শের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। কংগ্রেস সাংসদ তথা সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধি ভদ্রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এই মানসিকতাই বিজেপি ও আরএসএসের প্রকৃত ভাবধারাকে স্পষ্ট করে দেয়। এই ধরনের কাজকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।" প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ঘটনার বিরুদ্ধে কথা বলা এবং ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি জানান তিনি। প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ কুমারী সেলজা একে একটি 'লজ্জাজনক ঘটনা' বলে অভিহিত করেন। উত্তরাখণ্ডের বিজেপি চালিত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবিধান প্রদত্ত সাম্যের অধিকার রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে উত্তরাখণ্ডের মানসিকতারই এখন 'শুদ্ধিকরণ' প্রয়োজন।