পুবের কলম, গান্ধিনগর: পুবের কলম, গান্ধিনগর: কৃষিভূমির ওপর দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর বিরুদ্ধে গুজরাটে আন্দোলনরত কৃষকরা রাজ্য সরকারের ঘোষিত সংশোধিত ক্ষতিপূরণ নীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার সম্প্রতি ক্ষতিপূরণের নিয়মে কিছু বদল আনলেও, কৃষকদের মতে এই নতুন ফ্রেমওয়ার্কও জমির ভবিষ্যৎ মূল্য ও ব্যবহারের আর্থিক ক্ষতি মেটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। প্রসঙ্গত, গত ৪ জুলাই গুজরাট সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিল, এখন থেকে ‘জান্ত্রি’ হারের বদলে বাজারদরের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ হিসেব করা হবে এবং তা এককালীন মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আন্দোলনকারী কৃষক নেতাদের দাবি, এতে মূল সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।


 
আন্দোলনকারী শীর্ষ কৃষক নেতাদের অন্যতম নেহুল অম্রুতিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "লটারি সিস্টেমে যেভাবে ক্ষতিপূরণের হিসেব করা হচ্ছে, তাতে শেষ পর্যন্ত কৃষকরাই ক্ষতির মুখে পড়বেন।" উল্লেখ্য, আন্দোলনকারী নেতা নেহুল অম্রুতিয়া নিজে গুজরাট সরকারের এক মন্ত্রী কান্তিলাল অম্রুতিয়ার ভাইপো। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই কৃষক আন্দোলনের প্রভাব এতটাই তীব্র যে, বিভিন্ন গ্রামে "বিজেপি প্রতিনিধিদের গ্রামে প্রবেশ নিষেধ" লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
 
আদানি এনার্জি সলিউশনস লিমিটেড-এর ৭৬৫-কেভি ট্রান্সমিশন প্রজেক্টকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নামে কৃষকরা।
কৃষক নেতা অম্রুতিয়া বলেন, "আমরা সেই সমস্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে, যারা আমাদের জমির ওপর দিয়ে সঞ্চালন লাইন বসাচ্ছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি কৃষককে এ বিষয়ে সচেতন ও ক্ষমতায়িত করা, তা সে যাঁর জমির ওপর দিয়েই এই লাইন যাক না কেন।" আন্দোলনকারী অপর এক কৃষক প্রতীক প্যাটেল জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের কারণে গুজরাটের একাধিক জেলায় প্রায় ৪০ লাখ বিঘা কৃষি জমি এবং সাড়ে ৪ লাখ কৃষকের ভবিষ্যৎ আজ সংকটের মুখে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জমিতে একবার বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়ে গেলে কৃষকরা আর পূর্ণাঙ্গভাবে চাষবাস করতে পারবেন না। এই খুঁটি ও হাই-ভোল্টেজ লাইনের কারণে জমির দাম একধাক্কায় অনেকটা পড়ে যায়। ভবিষ্যতে কোনো শিল্পপতির কাছেও কৃষকরা এই জমি বিক্রি করতে পারবেন না।"