উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: এবছর বিকশিত ভারত নিয়ে প্রবন্ধ লিখে ১৫ আগস্ট লালকেল্লায় আমন্ত্রিত সুন্দরবনের বাসন্তীর সেলিমা, তবে তার এই স্বপ্ন পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। নবম শ্রেণির ছাত্রী সেলিমা মোল্লা সুন্দরবনের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। যেখানে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা এবং প্রতিদিন পেট চালানোর জন্য লড়াই করতে হয়, সেখানে পড়াশোনা বিলাসিতার শামিল। কিন্তু মেয়ের পড়াশোনায় বাবা কোনো খামতি রাখেননি। এবার সেই নবম শ্রেণির ছাত্রী নিজের পরিবার, স্কুল তথা গোটা গ্রামের মুখ উজ্জ্বল করেছে। বিকশিত ভারত নিয়ে প্রবন্ধ লিখে স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লায় যাওয়ার ডাক পেয়েছে এই কিশোরী। তবে তার এই সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম অর্থকষ্ট।

সরকারি সাহায্য না মিললে তার পক্ষে রাজধানী দিল্লি যাওয়া সম্ভব নয়, তাই সরকারি সাহায্যের আর্জি জানিয়েছে তার পরিবার।

সেলিমা মোল্লা বাসন্তীর ফুলমালঞ্চ ঋতু ভকত উচ্চমাধ্যমিক হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা সেলিম মোল্লা একজন দিনমজুর এবং মা রেহেনা মোল্লা গৃহবধূ। চার ভাইবোনের মধ্যে সেলিমা সবার বড়। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা সেলিমা প্রতিদিন বাড়ি থেকে ৩০ মিনিট সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে। পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী সেলিমার প্রিয় বিষয় ইংরেজি। সম্প্রতি ভারত সরকার বিকশিত ভারত প্রসঙ্গে একটি প্রবন্ধ লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

সেই প্রতিযোগিতায় ইংরেজি ভাষায় ৫০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ লিখে সেলিমা তার স্কুল শিক্ষকের কাছে জমা দিয়েছিল। পরবর্তীকালে সেই লেখাটি মূল্যায়নের জন্য দিল্লিতে পাঠানো হয়।

এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের মধ্য থেকে মাত্র ২০০ জনকে বাছাই করা হয়েছে এবং সেই তালিকায় সেলিমার নাম রয়েছে। সেই সুবাদেই তাকে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাসন্তী ব্লকজুড়ে খুশির হাওয়া বইছে। ফুলমালঞ্চ ঋতু ভকত উচ্চমিক হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অম্বরীশকুমার দত্ত বলেন, বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রছাত্রীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য পড়ুয়া এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল।

সেলিমা এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। সে জীবনে অনেক বড় হোক এবং তার ঝুলিতে আরও অনেক সাফল্য আসুক, এই বিশ্বাস আমার রয়েছে।

এদিকে মেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে চোখে জল বাবা-মায়ের। বাবা গর্বের সঙ্গে সবাইকে বলছেন যে তার মেয়ে দিল্লি থেকে ডাক পেয়েছে। কিন্তু দিল্লির লালকেল্লায় যাওয়ার খরচের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়ে পরিবারটি গভীর চিন্তায় রয়েছে। দিল্লি যাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সেলিমা নিজে জানিয়েছে, যদি সরকারিভাবে খরচ দেওয়া হয়, তবেই স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লায় উপস্থিত হওয়া তার পক্ষে সম্ভব। তা না হলে এই ব্যয়ভার বহন করা তার পরিবারের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। এখন দেখার বিষয়, সরকারি সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সেলিমার স্বপ্ন পূরণ হয় কি না।