পুবের কলম, লখনউ: শ্রাবণ মাস এবং কাওয়ার যাত্রা উপলক্ষে উত্তরপ্রদেশের অমরোহার মুরগি ও খাসির মাংসের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এদিন শুনানিতে আদালত মন্তব্য করেছে, এই আবেদনটি প্রকৃত 'জনস্বার্থ'-এর চেয়ে বরং 'প্রচারের স্বার্থে' দাখিল করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
 
অমরোহার স্থানীয় আইনজীবী নাসির ফারুকী এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। আবেদনে কাওয়ার যাত্রা চলাকালীন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের জারি করা দোকান বন্ধের নোটিশের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

পিটিশনে অভিযোগ করা হয়, অমরোহার যেসমস্ত মাংসের দোকান কাওয়ার যাত্রার নির্ধারিত রুটের বাইরে বা গলির ভেতরে অবস্থিত, সেইসব দোকানগুলিকেও পুলিশ তারিখহীন নোটিশ দিয়ে জোরপূর্বক বন্ধ করে দিচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং এই পেশার ওপর নির্ভরশীল শত শত মানুষের রুজিরুটি ও জীবিকা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। আবেদনকারী নিজেই একজন আইনজীবী হওয়ায় এ ধরনের আবেদন পেশ করায় আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এটি জনস্বার্থ নয়, বরং সস্তা প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। 
 
আবেদনকারী দাবি করেন, প্রশাসনিক নোটিশে শ্রাবণ মাসের কেবল চারটি সোমবারের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে পুরো মাস জুড়েই দোকান খুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
কেবল মূল সড়ক বা কাওয়ার যাত্রার রাস্তার ওপরের দোকানই নয়, দূরবর্তী এলাকার দোকানগুলি বন্ধ করে দেওয়ায় কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ নির্ধারিত উদ্দেশ্যের সীমা অতিক্রম করেছে বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়। আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মুস্তাকিম আহমেদ সওয়াল করে অমরোহার দোকানদারদের দেওয়া তারিখহীন নোটিশগুলি বাতিল করার এবং হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
 
উত্তরপ্রদেশ সরকারের অতিরিক্ত প্রধান স্থায়ী কাউন্সেল রামানন্দ পাণ্ডে আদালতে উপস্থিত থেকে এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক কাওয়ারিয়ার যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে প্রশাসন এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এলাহাবাদ হাইকোর্ট মামলাটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তা খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে অমরোহার মাংসের দোকান বন্ধের নোটিশ সংক্রান্ত আইনি চ্যালেঞ্জে আবেদনকারী কোনো স্বস্তি পেলেন না।