পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: আগামী ১৬ অগস্ট, রবিবার রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’। রাজ্য সরকার এই দিনটিকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। শুক্রবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা উপস্থিত থাকতে না পারলেও, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া পটেল উপস্থিত থাকবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ৩ কোটি ৩৯ লক্ষ উপভোক্তাকে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবারপিছু প্রতি বছর পাঁচ লক্ষ টাকার সম্পূর্ণ ‘ক্যাশলেস’ চিকিৎসা পরিষেবা মিলবে।

পরিবারে সদস্য সংখ্যার কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই, তবে প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা কার্ড করা হবে এবং এর জন্য উপভোক্তাকে অবশ্যই দেশের নাগরিক হতে হবে ও আধার কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। 

কার্ডটিতে থাকা আভা আইডির মাধ্যমে রোগীর সম্পূর্ণ মেডিক্যাল ইতিহাস পোর্টালে সংরক্ষিত থাকবে। পুরো ব্যবস্থাটি ডিজিটাল হওয়ার কারণে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার সময় সর্বদা কার্ড সঙ্গে রাখাও বাধ্যতামূলক নয়। এই প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালে ভর্তির তিন দিন আগে থেকে শুরু করে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার ১৫ দিন পর পর্যন্ত যাবতীয় চিকিৎসার খরচ মিলবে। রোগীকে বাইরে থেকে কোনও ওষুধ বা চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনতে হবে না।


সারা দেশের প্রায় ১৪ হাজার এবং রাজ্যের মোট ১,৯৩০টি হাসপাতালে (যার মধ্যে ১,৩০৩টি বেসরকারি হাসপাতাল) এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। এর ফলে রাজ্যের উপভোক্তারা ভিন রাজ্যে গিয়ে অসুস্থ হলেও এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা করাতে পারবেন। অতীত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বেড নেই এই অজুহাতে কোনও বেসরকারি হাসপাতাল আয়ুষ্মান ভারতের রোগীদের ফেরাতে পারবে না।

যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা থেকে কোনও কারণে বঞ্চিত হবেন, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তাঁদের জন্য রাজ্য সরকারের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে থাকছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’।

এই প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় ৮০ লক্ষ পরিবার উপকৃত হবেন। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অনুমোদনের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই নবান্নে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালু হলেই যে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে, এমনটা নয়। আগামী দু-তিন মাস স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা চালু থাকবে। দু'মাস পর আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করে দেখার পর ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প প্রত্যাহারের পথে হাঁটতে পারে রাজ্য।