পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পারিবারিক বিবাদের জেরে ৮৫ বছর বয়সী দাদুকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠল ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। রাজস্থানের পালি জেলায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। দাদুকে খুনের পর বন্ধু ও এক ফার্মের পাহারাদারের সহায়তায় মরদেহ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেয় ওই কিশোর। শুক্রবার পুলিশ জানায়, ঘটনায় অভিযুক্ত নাবালককে আটক করা হয়েছে এবং তার বন্ধুসহ ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

১২ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর ধারে একটি দেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। দেহটি উদ্ধারের পর দেখা যায়, বৃদ্ধের বুকে একাধিক ছোরার আঘাতের ক্ষত রয়েছে এবং গলায় শ্বাসরোধের স্পষ্ট চিহ্ন বিদ্যমান।
 
দেহ শনাক্ত করার পর তদন্তকারীরা নিহতের বাড়িতে পৌঁছান। বৃদ্ধ এতদিন ধরে নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও কেন পরিবার থেকে কোনো ডায়েরি বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি—এ বিষয়ে প্রশ্ন করতেই ১৬ বছর বয়সী ওই নাতি মারাত্মক ঘাবড়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সে নিজের দাদুকে খুনের কথা স্বীকার করে।
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ অভিযুক্ত দ্বাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষা করার পর তাতে ইন্টারনেট সার্চের রেকর্ড খুঁজে পায়। অভিযুক্ত কিশোর ঘটনার আগে ইন্টারনেটে 'খুনের উপায়' এবং 'মানুষের গলায় কতটা চাপ দিলে মৃত্যু নিশ্চিত করা যায়'—এ জাতীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছিল।
 
পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত কিশোর জানায়, সে ও তার বন্ধু মিলে প্রথমে বৃদ্ধ দাদুর ওপর স্ক্রু ড্রাইভার ও ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। এরপর তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর দেহটি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় পুরে ফেলে।