পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:বিভিন্ন শিখ সংগঠনের যৌথ মঞ্চ 'কৌমি ইনসাফ মোর্চা'-র প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে শনিবার চণ্ডীগড়-মোহালি সীমান্তে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল চণ্ডীগড়ে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ আটকাতে চণ্ডীগড় পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনী একাধিক টিয়ার গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করার পাশাপাশি জলকামান প্রয়োগ করে।দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি শিখদের (যাঁরা ‘বন্দি শিখ’ নামে পরিচিত) মুক্তি এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বেয়ান্ত সিং হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত জগতাজ সিং হাওয়ারার ১০ দিনের প্যারোলের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা ‘পাঞ্জাব লোক ভবন’-এর দিকে পদযাত্রা করার সময় এই সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত জুড়ে চণ্ডীগড় পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর এক বিরাট দল মোতায়েন করা হয়েছিল।

মোহালির ওয়াইপিএস চক দিয়ে চণ্ডীগড়ে ঢোকার মুখে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ আন্দোলনকারীদের বারবার পিছু হটার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ট্র্যাক্টর নিয়ে ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান চালায় এবং টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটায়। এর জবাবে কিছু আন্দোলনকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করলে সীমান্ত এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশ দাবি করেছে, আন্দোলনকারী কিছু যুবক অস্ত্র বহন করছিল যা কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে।

সংঘাত চলাকালীন সামাজিক মাধ্যমে ও স্থানীয় সূত্রে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, পঞ্জাবের প্রবীণ নেতা সিমরনজিৎ সিং মান মুখমণ্ডল ব্যান্ডেজে ঢেকে ‘রোগীর’ ছদ্মবেশে পাঞ্জাব লোক ভবনের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। তবে চণ্ডীগড় পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা এই খবরের আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিশ্চিত করেননি।

এই সংঘাতময় পরিস্থিতির পর কৌমি ইনসাফ মোর্চার পক্ষ থেকে আগামী ২১ আগস্ট ‘পাঞ্জাব বন্ধ’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে। মোর্চার নেতাদের বক্তব্য, বহু শিখ বন্দি তাঁদের সাজা শেষ হওয়া কিংবা জামিনের যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও গত ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে জেলখানায় বন্দি রয়েছেন।সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা আর কেবল জগতার সিং হাওয়ারার প্যারোলের দাবিতে আন্দোলন সীমাবদ্ধ রাখবেন না; সাজাপ্রাপ্ত ও যোগ্য সমস্ত বন্দি শিখদের স্থায়ী মুক্তির দাবিতে তাঁদের লড়াই জারি থাকবে।