পুবের কলম, নয়াদিল্লি: পঞ্জাবের কয়েকটি সরকারি স্কুলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হয়নি, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। কমিশনের সদস্য প্রিয়াঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ অভিযোগটি গ্রহণ করেছে।
অভিযোগের মূল লক্ষ্য রাজ্যের গ্রামীণ, প্রত্যন্ত এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সরকারি স্কুলগুলি। অভিযোগ সত্য হলে, ওই স্কুলগুলির পড়ুয়ারা জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে কমিশন।
১৫ অগস্ট রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে কীভাবে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে এনএইচআরসি।

রাজ্য, জেলা এবং স্কুল—তিনটি স্তরেই তথ্য দিতে বলা হয়েছে। কতগুলি স্কুলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়েছে, কোথায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়েছে এবং কতগুলি স্কুলে পড়ুয়ারা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে, তা জানাতে হবে।
যে স্কুলগুলিতে নির্ধারিত কর্মসূচি হয়নি, সেগুলিও চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। পাশাপাশি, কেন অনুষ্ঠান হয়নি, তার কারণও জানাতে হবে রাজ্য সরকারকে।
বিশেষভাবে গ্রামীণ, প্রত্যন্ত এবং সীমান্ত এলাকার স্কুলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
ওই অঞ্চলের পড়ুয়ারা রাজ্যের অন্যান্য এলাকার ছাত্রছাত্রীদের মতোই জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সমান সুযোগ পেয়েছিল কি না, তাও স্পষ্ট করতে হবে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ, স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠান পড়ুয়াদের কাছে শুধুমাত্র উৎসব নয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম, সংবিধান, জাতীয় প্রতীক, নাগরিক কর্তব্য, জাতীয় ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শেখার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও এটি।
পঞ্জাবের মুখ্যসচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এনএইচআরসি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের কাছ থেকেও প্রাসঙ্গিক তথ্য চেয়েছে কমিশন।