সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ-র আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা এবার জেলাশাসকদের হাতে তুলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গ-সহ আটটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য বুধবার নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এতদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি এই আবেদনগুলি খতিয়ে দেখত।
আরও পড়ুন:
নতুন নিয়মে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, ত্রিপুরা, গুজরাত, রাজস্থান, পঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে সিএএ-র আবেদনগুলি জেলাশাসকেরা নিষ্পত্তি করবেন। তবে অসম ও ত্রিপুরার জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে না।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, এই আটটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি এবং জেলা পর্যায়ের কমিটির কাছে বর্তমানে যে সিএএ-র আবেদনগুলি বিবেচনাধীন রয়েছে, সেগুলিও জেলাশাসকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরও পড়ুন:
নতুন ব্যবস্থায় জেলাশাসকেরা আবেদনকারীদের নথিপত্র যাচাই করতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে তদন্তও করতে পারবেন। আবেদনকারী সিএএ-র নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করছেন কি না, সেটিও যাচাই করবেন তাঁরা। তদন্ত ও নথিপত্র যাচাইয়ে সন্তুষ্ট হলে জেলাশাসকরাই সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
সিএএ কার্যকর করা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত রয়েছে।
তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। অন্যদিকে, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিজেপি সরকার সিএএ বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে।আরও পড়ুন:
গত ১ অগস্ট নিউটাউনের একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিএএ-র আওতায় ৩০০ জন আবেদনকারীর হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠান থেকেই তিনি জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত জেলাশাসকদের হাতে সিএএ-র আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা চলে আসবে। তাঁর দাবি ছিল, এই ক্ষমতা হাতে এলে রাজ্যে জমে থাকা আবেদনগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে এবং ছ’মাসের মধ্যে সেগুলির কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছিলেন, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত কার্যকর করার অনুরোধ করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব তাঁকে জানিয়েছিলেন, প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার প্রায় দু’সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রের তরফে নতুন নির্দেশিকা জারি হল। ফলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে সিএএ-র আবেদন নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবার আরও সরাসরি জেলা প্রশাসনের হাতে চলে এল। নতুন ব্যবস্থায় নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই ও মঞ্জুরির ক্ষেত্রে জেলাশাসকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।