পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ধর্মীয় ও আঞ্চলিক পরিচয়ের কারণে দুই কাশ্মীরি ফার্মেসি ছাত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ভাড়া বাড়ি খালি করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিস্থিতি চটে ওঠায় মধ্যস্থতা করতে বাধ্য হয়েছে ভোপাল পুলিশ। পুলিশের এক প্রবীণ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছে এবং নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে।
 
সমগ্র বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ চেয়ে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবকে তিন পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (JKSA)। ১৮ আগস্ট লেখা ওই চিঠিতে দুই কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর "জরুরি এবং ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ" দাবি করা হয়েছে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোপালের ওই আবাসনে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে এবং বাড়ির মালিকের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
 
অভিযোগকারী দুই শিক্ষার্থীই প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বৃত্তি প্রকল্পের (PMSSS) অধীনে ভোপালের একটি বেসরকারি কলেজে ফার্মেসি নিয়ে পড়াশোনা করছেন। জেকেএসএ (JKSA)-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রকল্পের আওতায় তাঁদের জন্য হোস্টেল বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও, কলেজে বর্তমানে পর্যাপ্ত হোস্টেল সুবিধা নেই। সেই কারণে গত বছর থেকে বাধ্য হয়ে তাঁরা একটি পেয়িং-গেস্ট হিসেবে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
 
ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, স্থানীয় আবাসন সোসাইটির কয়েকজন সদস্য এবং কিছু "উগ্রপন্থী বা অসামাজিক উপাদান" শুধুমাত্র তারা জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য বাড়ির মালিককে অনবরত হুমকি দিচ্ছে। এমনকি, অনতিবিলম্বে তাঁদের না তাড়ালে বাইরে থেকে লোকজন এনে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র ফেলে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।