পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ক্রমবর্ধমান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন যোগগুরু বাবা রামদেব। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, সরকার যদি দ্রুত এই ‘ঘাপলা’ (দুর্নীতি) বন্ধ না করে, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে এবং দেশের স্বার্থে তাঁকে আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে হতে পারে। গতকাল ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে অবস্থিত পতঞ্জলি যোগপীঠে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রামদেব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থা ও সরকারি নিয়োগের দুর্নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন জি’ (Gen Z)-কে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলায় না জড়িয়ে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রতিবাদ চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
 
দেশের বর্তমান শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থার দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বাবা রামদেব বলেন, "আজ দেশের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছে যে বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক নেই। বিদ্যুৎ, পানীয় জল ও শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধাগুলো উধাও। কোথাও গণটোকাটুপি চলছে, তো কোথাও পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। সরকারি চাকরির ইন্টারভিউগুলোতে দুর্নীতি এখন ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। জাত ও ধর্মের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং সংবিধানের পরিপন্থী।
" তাঁর কথায়, "একদিকে আমরা 'সত্যমেব জয়তে' আর 'যতো ধর্মস্ততো জয়ঃ'-র বাণী প্রচার করি, অন্যদিকে ১ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার পর চাকরি মিলছে। প্রত্যেকে যদি এভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে শুরু করে, তবে দেশ কীভাবে চলবে? তাই নিজেদের ভুল শুধরে নিন, তা না হলে এই আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।"
 
প্রতিবাদের নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্যকে তিনি সমর্থন করেন না জানিয়ে রামদেব কেন্দ্র সরকারকে সর্তক করে দিয়ে বলেন, "আমি প্রতিবাদের নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা আইন অমান্য করাকে সমর্থন করি না। কিন্তু দেশে যে প্রচুর ঘাপলা বা দুর্নীতি হচ্ছে—সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। দয়া করে এই সমস্যার সমাধান করুন, তা না হলে বাবা রামদেবকে আবারও প্রতিবাদে নামতে হবে।"