গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হামাসের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। মিসরের আলামেইন শহরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে গাজার যুদ্ধবিরতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং হামাসের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হায়া উপস্থিত ছিলেন। কুশনারের পাশাপাশি মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদ, কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি এবং তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও আলোচনায় অংশ নেন। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত শান্তি পর্ষদের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও বৈঠকে ছিলেন।

আলোচনায় হামাস নেতারা গাজায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। জবাবে কুশনার জানান, গাজার বাসিন্দাদের জোর করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে না। একইসঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি জাতীয় কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

তবে ভবিষ্যতে গাজার প্রশাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না—এমন একটি অবস্থানও বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি হামাসকে অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো পরিত্যাগ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, তারা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের শর্তগুলো মেনে চলছে। তবে ইসরায়েল সেই শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। হামাসের দাবি, ইসরায়েলকে প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে যেতে হবে।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে হামাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলেছে। ওয়াশিংটন হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবেও তালিকাভুক্ত করে রেখেছে।

তবে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধের আশায় ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে হামাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে আগের তুলনায় বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এই মতপার্থক্য কমানোর লক্ষ্যেই কুশনার ইসরায়েল ও মিসর সফর করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার কুশনার ও ম্লাদেনভের নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের অবস্থানের সমালোচনা করেছে মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটনের প্রতি ইসরায়েলকে শান্তি পরিকল্পনা মেনে চলতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।