ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকার ভোটার যাচাইয়ের আইন আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি।

মঙ্গলবার সকালে ভারতীয় সময় অনুযায়ী, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে একটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তাঁর দাবি, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার মার্কিন প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন— বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র ছাড়া কীভাবে আমেরিকায় ভোট দেওয়া যায়। 

ট্রাম্পের দাবি, ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রায় ৬৪ কোটি ৬০ লক্ষ ভোটার ভোট দিয়েছেন এবং এক শতাংশেরও কম ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য, ভারতে ভোটারদের জন্য বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্রের প্রয়োজন রয়েছে। সেই উদাহরণ টেনেই আমেরিকাতেও একই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে দ্রুত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবিত আইনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ভোট দেওয়ার আগে বৈধ সচিত্র পরিচয়পত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে পাস হলেও এখনও সেনেটে তা অনুমোদিত হয়নি।

ট্রাম্প প্রশাসন আইনটি কার্যকর করার পক্ষে জোর দিচ্ছে। রিপাবলিকানদের যুক্তি, ভোটার পরিচয় যাচাই আরও কঠোর হলে নির্বাচনে জালিয়াতির সম্ভাবনা কমবে।

তবে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে ডেমোক্র্যাট শিবির। তাদের আশঙ্কা, কঠোর পরিচয়পত্রের নিয়ম চালু হলে এমন বহু বৈধ ভোটার সমস্যায় পড়তে পারেন, যাঁদের কাছে নির্দিষ্ট ধরনের পরিচয়পত্র নেই। এর ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হতে পারে বলে তাদের দাবি।

উল্লেখ্য, আমেরিকায় ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে গোটা দেশে একই ধরনের সচিত্র পরিচয়পত্র দেখানোর বাধ্যতামূলক নিয়ম বর্তমানে নেই। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম ভিন্ন। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আইনের লক্ষ্য হল গোটা দেশেই পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য একটি অভিন্ন ও কঠোর ব্যবস্থা চালু করা।

এই বিতর্কের মধ্যেই ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে সামনে এনে নিজের অবস্থান আরও জোরালো করার চেষ্টা করলেন ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে জ্ঞানেশ কুমার আমেরিকায় গিয়েছিলেন। সেই সফরের প্রসঙ্গও ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

ফলে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে দেশীয় রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের কারণে আন্তর্জাতিক স্তরেও জ্ঞানেশ কুমারের নাম নতুন করে আলোচনায় উঠে এল।