পুবের কলম, নয়াদিল্লি: দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ১৪ জন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ঝুলছে গুরুতর ফৌজদারি মামলা। এমপি ও এমএলএ-দের বিরুদ্ধে থাকা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে দায়ের হওয়া একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়া রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শীর্ষ আদালতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিযুক্ত প্রবীণ আইনজীবী বিজয় হানসারিয়া এই রিপোর্টটি পেশ করেছেন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্থ রেড্ডির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৮৯টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে রয়েছে ২৯টি মামলা। অন্যদিকে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুর বিরুদ্ধে ১৯টি করে এবং কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ভি.ডি. সতীশনের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে।
 
 রিপোর্টে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
এই রাজ্যের ২৯২ জন বিধায়কের মধ্যে ১৭০ জনের (৫৮ শতাংশ) বিরুদ্ধে মারাত্মক সব ফৌজদারি মামলা ঝুলছে। তালিকায় এরপরই রয়েছে কেরল (৫৭%), অন্ধ্রপ্রদেশ (৫৬%) এবং তেলঙ্গানা (৪৯%)। রিপোর্ট অনুযায়ী, সাংসদ বা লোকসভার ক্ষেত্রে চিত্রটি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। লোকসভার ৫৪৩ জন সাংসদের মধ্যে ১৭০ জন (৩১%) বিরুদ্ধেই ঝুলছে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ।
তেলঙ্গানার ১৭ জন সাংসদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। কেরলের ২১ জন সাংসদের মধ্যে ১১ জন এই তালিকায় যুক্ত। বিহারে ৪০ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জন এবং উত্তরপ্রদেশে ৮০ জন সাংসদের মধ্যে ৩৪ জনই অভিযুক্ত।
 
 ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে বর্তমান ও প্রাক্তন সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে মোট ৪,১৯২টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন অবস্থায় আটকে রয়েছে। রাজ্য হিসেবে উত্তরপ্রদেশে এই ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—১,১৭১টি। রাজনীতিতে অপরাধীকরণ রুখতে এবং এই মামলাগুলোর দ্রুত নিস্পত্তির স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কাছে বিশেষ আদালত গঠনের সুপারিশ করেছেন বিজয় হানসারিয়া। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর হাইকোর্ট যাতে এই মামলাগুলোর অগ্রগতির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালায়, সে বিষয়েও শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।