নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে হিসাবের বাইরে থাকা টাকা বা কালো টাকার ব্যবহার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল ভিত্তিকে আঘাত করে এবং “গণতন্ত্রের মূল সত্তাকেই” ক্ষতিগ্রস্ত করে, এমন পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচনী দুর্নীতি রুখতে একাধিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি নংমেইকাপাম কোটিশ্বর সিংয়ের বেঞ্চ ২০১৫ সালে কর্নাটক হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দেয়। মামলাটি ২০১৪ সালের বেল্লারি লোকসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী প্রতীক পরশ্রমপুরিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরকে কেন্দ্র করে। ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা মজুতের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে অভিযোগে কাকে এবং কীভাবে ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা নির্দিষ্ট না থাকায় কর্নাটক হাইকোর্ট এফআইআর খারিজ করেছিল।
 সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য মামলার পরিধি বাড়িয়ে নির্বাচনে কালো টাকার বৃহত্তর ও কাঠামোগত সমস্যা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র আইনজীবী গৌরব আগরওয়াল এবং আইনজীবী স্বপ্নিল ত্রিপাঠিকে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করা হয়েছে।
আদালত বলেছে, ভোটারের সিদ্ধান্ত যদি অর্থ বা অন্য কোনও বাহ্যিক প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, তা আর তাঁর নিজস্ব স্বাধীন সিদ্ধান্ত থাকে না। গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং নির্বাচন ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত; একটির ক্ষতি হলে তিনটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
 নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী অপরাধের সঙ্গে নগদ বা সম্পদের প্রাথমিক যোগসূত্র থাকলে তা বাজেয়াপ্ত করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতকে কারণ-সহ জানাতে হবে। এফআইআর দায়েরের এক বছরের মধ্যে তদন্ত শেষ করার জন্য তদন্তকারী আধিকারিকদের সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।
দেরি হলে তার লিখিত কারণ নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
 স্ট্যাটিক সার্ভেলেন্স টিমের হাতে ১০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ ধরা পড়লে আয়কর কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। প্রার্থী বা বর্তমান সাংসদ-বিধায়কদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টগুলিকে বিশেষ আদালত নির্দিষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী সময়কালে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০১৯-২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বিপুল সংখ্যক মামলা এখনও ঝুলে থাকায় আদালত দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশগুলি বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সরকারগুলিকে চলতি বছরের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে।