উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: বারুইপুর বিস্ফোরণকাণ্ডে বর্তমানে এনআইএ হেফাজতে রয়েছেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে নতুন করে আইনি বিপাকে জড়িয়েছেন তিনি। এই মামলায় শওকত মোল্লাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বারুইপুর মহকুমা আদালত। আদালতের নির্দেশ মেনে সোমবার রাতে তাঁকে ভাঙড় থানায় নিয়ে আসা হয় এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় জেরা পর্ব।
আরও পড়ুন:
তবে এদিন শওকত মোল্লাকে জেরা করার দৃশ্য কার্যত নজিরবিহীন। ভাঙড় থানার বাইরে রাস্তার ধারে চেয়ার-টেবিল পেতে বসেন পুলিশ আধিকারিকরা। সেখানেই বসানো হয় তাঁকে।
এরপর পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সাধারণত থানার ভিতরে জেরার ঘটনা পরিচিত হলেও, এভাবে থানার বাইরে রাস্তার উপর চেয়ার-টেবিল পেতে জেরা করার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমে যায় স্থানীয়দের। একসময় যাঁর প্রভাব প্রতিপত্তিতে এলাকায় কার্যত বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, সেই শওকত মোল্লাকে এমন পরিস্থিতিতে দেখতে উৎসুক হয়ে ওঠেন এলাকার মানুষ। তাঁকে একনজর দেখার জন্য থানার বাইরে ভিড় জমে যায়।আরও পড়ুন:
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল। অভিযোগ, ওই দিন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকার বাসিন্দা খুরশিদ আলমের বাড়ি ও দোকানে ঢুকে শওকত মোল্লার শাগরেদরা ভাঙচুর চালায়। দোকানের মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
এর প্রায় দু’মাস পর, ১৮ জুন বোদরা বাজারে থাকা ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মালপত্র লুট করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি গাড়ি দিয়ে দোকানটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। ঘটনার পর ১২ জুলাই বোদরা থানায় শওকত মোল্লা-সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।আরও পড়ুন:
সেই মামলারই তদন্তের স্বার্থে বর্তমানে ভাঙড় থানায় রয়েছেন শওকত মোল্লা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার রাতে তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা এবং অভিযুক্ত অন্যান্যদের সঙ্গে তাঁর কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখতে জেরা করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে শওকত মোল্লাকে থানার বাইরে জেরা করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বাইরের কেউ যাতে ছবি তুলতে না পারেন, তার জন্য পুলিশের তরফে সতর্কতাও নেওয়া হয় বলে জানা যায়। এমনকি যানবাহন অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তাতেও স্থানীয়দের কৌতূহল থামানো যায়নি। থানার বাইরে জড়ো হয়ে অনেকেই তাঁকে একনজর দেখার চেষ্টা করেন। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড়ের রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে এমন অবস্থায় দেখে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এখন পুলিশের জেরায় এই মামলায় নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।