পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: মৌলানা মোহাম্মদ আলী জৌহর ট্রাস্ট এবং রামপুরের মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত একটি অর্থপাচার মামলার তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির মোট ১০টি স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি। ইডির লখনউ জোনাল অফিসের উদ্যোগে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ), ২০০২-এর ১৭ নম্বর ধারার অধীনে এই অভিযান চালানো হয়। মূলত রামপুর, সাহারানপুর এবং দিল্লির একাধিক চত্বরে অনুসন্ধান চালিয়েছেন ইডি আধিকারিকেরা।


 
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর-এর ওপর ভিত্তি করেই ইডি এই আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সরকারি চুক্তির মাধ্যমে বরাদ্দ হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ বেআইনিভাবে বেসরকারি ঠিকাদারদের মাধ্যমে অন্য খাতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সেই অর্থ মৌলানা মোহাম্মদ আলী জৌহর ট্রাস্ট এবং জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ইডির প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ঠিকাদার এবং উক্ত ট্রাস্টের মধ্যে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
ইডির সন্দেহ, সরকারি চুক্তি থেকে লাভবান হওয়া ঠিকাদারেরা মোটা অঙ্কের অনুদান কিংবা নির্মাণকাজের অর্থ হিসেবে একটি অংশ ট্রাস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে ট্রান্সফার করেছিলেন।
 
ইডির একটি সূত্রে জানানো হয়েছে, অপরাধলব্ধ অর্থ বা ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’-এর সঠিক গতিপথ উদ্ধার করতেই এই তল্লাশি। একই সাথে পুরো আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড, ডিজিটাল নথি ও প্রমাণপত্র বাজেয়াপ্ত করতে ট্রাস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত প্রাঙ্গণগুলোতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী আজম খান এই মোহাম্মদ আলী জৌহর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই ট্রাস্টের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত।