সাহানারা খাতুন: ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও কর্মী অনিক দে জানালেন গতকাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভায় ১৯৪৬ এর ক্যালকাটা কিলিং  অর্থাৎ ৪৬ এর দাঙ্গাকে সামনে রেখে যে আলোচনার সভার আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে রাজ্যের রাজ্যপাল তার বক্তৃতার মাধ্যমে যে ভূমিকা পালন করলেন সেটা খুবই উস্কানিমূলক ও নিন্দনীয়। একটি পুরানো ঘটনাকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে এই যে ঘটনাটি ঘটলো তার তীব্র নিন্দা করেছে এ আই ডিএসও, এসএফ আই এর মত আমজনতাও। 

সাম্প্রদায়িক কথাগুলো রাজ্যপালের মুখে যথেষ্ট বেমানান বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এআইডিএসও ইউনিট এই সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক উস্কানিমূলক সভার বিরোধিতা করে জানান যে, কোনও পুরানো ঘটনাকে বর্তমানে তুলে নিয়ে এসে বর্তমান যুব সমাজের সমস্যার কোনও সমাধান হতে পারে না।

যেখানে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিকাঠামো বিভিন্ন ভাবে ধুঁকছে  ও ধ্বংস হচ্ছে  সেগুলোতে নজর দেওয়া প্রথমে প্রয়োজন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের  জার্নালিজম বিভাগে মাত্র একজন অধ্যাপক। এগুলোই মূল সমস্যা। এই সমস্যাগুলোর সমাধান আগে করা উচিত। এআইডিএস ও এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় বর্তমান সরকারের যে যে এজেন্ডরা সেগুলো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে ।
 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১৯৪৬ সালের  দাঙ্গা প্রসঙ্গে বিশেষ লেকচার আয়োজন করা নিয়ে AIDSO পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় আজ এক বিবৃতিতে বলেন  "ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগণিত স্বাধীনতা সংগ্রামী দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখে লড়াই -আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। সেই সময় মুসলিম লীগ ও হিন্দু মহাসভা ভারতবর্ষের গরিব সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে বিদ্বেষের রাজনীতির বীজ বপন করে তাদের কায়েমি  স্বার্থসিদ্ধি করার চেষ্টা করছিল। ১৯৪৬ সালে  এই প্রেক্ষাপটে কলকাতায় একটি ভাতৃ-ঘাতী দাঙ্গা হয়। অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি হয়। এই 'গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং' সভ্যতার ইতিহাসে একটি লজ্জা" বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ করে 'দি ক্যালকাটা ম্যাসাকার' নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভাকে আমরা উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে আমরা মনে করি।" আজ এআইডিএস ওর একটি প্রতিনিধি দল গতকালের সভার বিরোধিতা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে যায় কিন্তু উপাচার্যের অনুপস্থির কারণে তারা আগামীকাল আবার যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অনলাইনে এ আই ডি এস ও এবং এসএফআই তারা ইমেইল করেছে বলে জানা গেছে।