হায়দরাবাদে স্কুলের প্রিন্সিপাল রূপা রেড্ডি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর সব তথ্য সামনে এনেছে। গত ১১ আগস্ট নালগোন্ডা জেলায় নিজের বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। খুনের সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে মোট ২৭ বার আঘাত করা হয়েছিল। ঘটনার আট দিন পর, ১৯ আগস্ট বুধবার তার স্কুলেরই দশম শ্রেণিতে পাঠরত দুই ছাত্রকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীদের কাছে রূপা রেড্ডি খুনের ঘটনার একটি বড় সূত্র হয়ে ওঠে ‘বাবু’ শব্দটি।
ঘটনার দিন রূপা ফোনে তার কাকিমার সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথোপকথনের একেবারে শেষ পর্যায়ে কাকিমা তার আর্তনাদ শুনতে পান। রূপা রেড্ডি কাউকে ‘বাবু’ বলে সম্বোধন করছেন শুনেই তদন্তকারীদের সন্দেহ তীব্র হয় এবং তারা স্কুলপড়ুয়াদের দিকে নজর ঘোরায়। এরপরই স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মী এবং পরিচারিকাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।আরও পড়ুন:
তদন্ত চলাকালীন স্কুলের ওই দুই দশম শ্রেণির ছাত্রের জীবনযাপনে আকস্মিক পরিবর্তন পুলিশের নজর কাড়ে।
বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করা, রেস্তোরাঁয় দেদার খরচ এবং দামি সামগ্রী কেনার তথ্য পুলিশের হাতে আসে। ১৯ আগস্ট সকালে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। তল্লাশিতে এক ছাত্রের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা এবং একটি আইফোন উদ্ধার করা হয়। কয়েকটি নোটের গায়ে রক্তের দাগ পাওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।আরও পড়ুন:
নালগোন্ডার পুলিশ সুপার শরৎচন্দ্র পাওয়ার জানিয়েছেন, জুলাই মাসের শেষের দিকে রূপা রেড্ডি ওই ছাত্রের ব্যাগে বিপুল পরিমাণ টাকা ও দামী ফোন দেখেছিলেন।
তাকে হস্টেল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার পরেই রূপা রেড্ডি এর বাড়িতে লুটের পরিকল্পনা করে দুই ছাত্র। ১১ আগস্ট স্কুলের ফি জমা দেওয়ার দিন থাকায় বাড়িতে টাকা থাকার সম্ভাবনা নিশ্চিত করে তারা আগে থেকেই রেকি করেছিল। এক ছাত্র পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢোকে এবং অন্যজন বাইরে পাহারায় থাকে বলে পুলিশের দাবি। রূপা রেড্ডি তাকে চিনে ফেলায় হামলা চালানো হয়। প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে পালানোর সময় তাদের রক্তমাখা জামাকাপড় ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়। পরে অভিযুক্তদের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে হাজির করা হলে তাদের জুভেনাইল হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।