নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও আন্দোলনের পর এবার পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার কথা সুপ্রিম কোর্টে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রের দাবি, আগামী দিনে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা আরও সুরক্ষিত করা হয়েছে। প্রশ্ন তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছনো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র পরিবহণের ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারি থাকবে।
যে গাড়িতে প্রশ্নপত্র নিয়ে যাওয়া হবে, তাতে জিপিএস ব্যবস্থা থাকবে। ফলে গাড়ির গতিবিধি নির্দিষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রশ্ন তৈরির প্রক্রিয়াতেও একাধিক মডারেটর রাখা হবে। তবে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্রে কোন কোন প্রশ্ন থাকবে, তা কোনও একক মডারেটরের কাছে সম্পূর্ণভাবে জানা থাকবে না।আরও পড়ুন:
প্রশ্নপত্র তৈরি ও সংরক্ষণের পাশাপাশি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) বিভিন্ন অফিসেও নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনটিএর সদর দপ্তর, আঞ্চলিক কার্যালয়-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও আগে সামনে এসেছিল। এর জন্য প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকার দরপত্র ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ কার্যকর করার বিষয়েও জানতে চেয়েছে।
নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনা খতিয়ে দেখতে গঠিত ওই কমিটি পরীক্ষার পরিকাঠামো উন্নত করা, নির্দিষ্ট টেস্টিং সেন্টার তৈরি এবং প্রশ্নপত্র প্রস্তুতির জন্য স্থায়ী কমিটি গঠন-সহ একাধিক সুপারিশ করেছিল।আরও পড়ুন:
শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছে, রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশগুলির কতটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি)-এর পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা থেকে এনটিএকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন:
তবে ইউপিএসসির পরীক্ষাও সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চলতি বছরের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জেনারেল স্টাডিজ পেপার-১-এর আটটি প্রশ্নে ভুল বা ত্রুটি থাকার অভিযোগ তুলে একদল পরীক্ষার্থী সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের (ক্যাট) দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, কয়েকটি প্রশ্নের দেওয়া উত্তর ভুল, আবার কিছু প্রশ্নে কোনও সঠিক বিকল্পই ছিল না। কয়েকটি প্রশ্ন নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরেও ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।