পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জলে ভেসে থাকা মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বড়ুয়া ফরাজিপাড়ার যুবক ইকবালের কথা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছিল। এবার জানা গেল, শুধু ইকবাল নন, তাঁর জেঠতুতো তিন দিদি-বোনও ঠিক একই রকম এক বিরল রোগে আক্রান্ত। তৌফিকা পারভিন (২২), নাসরিন সুলতানা (১৮) এবং তানিয়া সুলতানা (১৬) নামের ওই তিন বোনেরও শরীর জুড়ে সব সময় প্রচণ্ড জ্বালা করে। সেই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে তাঁরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পুকুরের জলে ডুবে থাকেন।
আরও পড়ুন:
শারীরিক অস্বাভাবিকতার কারণে তিনজনেরই ওজন ১০০ কেজি ছাড়িয়েছে, ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে পড়াশোনা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
রাতে যাতে পুকুরে চলে না যান, তাই বাধ্য হয়ে বাড়ির বারান্দায় তালা দিয়ে রাখেন মা গুলশন।জানা গিয়েছে, চার বছর আগে স্বামী মুরসালিমের মৃত্যুর পর থেকে চরম আর্থিক সঙ্কটে দিন কাটছে গুলশন বেওয়ার। একটি মাদ্রাসায় পরিচারিকার কাজ করে মাসে মাত্র তিন হাজার টাকা রোজগার করেন তিনি। ওই সামান্য টাকায় সংসার চালানোর পর মেয়েদের চিকিৎসা করানো তাঁর পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। ইকবালের চিকিৎসার জন্য তাঁকে মুম্বই নিয়ে যাওয়া হলেও, এই তিন বোনের দিকে এখনও কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি।
আরও পড়ুন:
পরিবার সূত্রে খবর, বোনেদের দাদু এবং বাবারও অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধির সমস্যা ছিল এবং তাঁরা অকালেই মারা যান। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অনাদি রায়চৌধুরীর মতে, প্রাথমিক ভাবে এটি জিনগত রোগ বলেই মনে হচ্ছে। অন্যদিকে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের সমস্যার পাশাপাশি স্থূলতাজনিত কারণে মানসিক অবসাদ বা ‘সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার’-এর জেরেও এমন শারীরিক জ্বালা অনুভূত হতে পারে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে দ্রুত এই তিন বোনের চিকিৎসা শুরু হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এখন এই অসহায় পরিবারের আশা, ইকবালের মতো তাঁদের মেয়েদের চিকিৎসাতেও কেউ হয়তো এগিয়ে আসবেন।