ওয়াহিদ রেজা: ভোটের মুখে মুর্শিদাবাদ জেলায় বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। রানিনগর বিধানসভা এলাকায় শাসকদলের অন্দরে ফাটল ধরিয়ে এক জেলা পরিষদ সদস্য ও পঞ্চায়েত প্রধানসহ শতাধিক তৃণমূল কর্মী মঙ্গলবার কংগ্রেসে যোগদান করলেন। বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস ভবনে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর হাত ধরে এই দলবদল কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতাদের মধ্যে অন্যতম হলেন জেলা পরিষদ সদস্য মোস্তফা কামাল এবং পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দিলশাদ হোসেন। প্রধানের সঙ্গে ওই পঞ্চায়েতের আরও ১৪ জন সদস্য এদিন হাত শিবিরে যোগ দেন।
দলবদলকারী নেতাদের নিশানায় ছিলেন রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিধায়ক আব্দুল সৌমিক হোসেন। প্রধান দিলশাদ হোসেন অভিযোগ করেন যে, বিধায়কের চাপের কারণে তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছিলেন না এবং সব বিষয়ে বিধায়কের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হতো। বিষয়টি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় তাঁরা দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।এই যোগদান কর্মসূচির পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “কংগ্রেসকে ভাঙিয়েই তৃণমূল এখানে শক্তি বাড়িয়েছিল। এখন সেই নেতারাই ঘরে ফিরে আসছেন। বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদকে আমরা নতুন করে গড়ে তুলব। তৃণমূলকে জেলা থেকে বিতাড়িত করাই এখন আমাদের লক্ষ্য।” ভয় না পেয়ে কংগ্রেস প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি। নির্বাচনের ঠিক আগে রানিনগরের এই রাজনৈতিক সমীকরণ বদল শাসকদলের দুশ্চিন্তা বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।