পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে এবং বাংলাকে ক্রীড়ার পীঠস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে বড়সড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। চালু হতে চলেছে ‘শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প’। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় জাতীয় ও রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং তাতে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। খেলাধুলোয় পুরস্কার ও সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়েও বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।

এই প্রকল্পের অধীনে কোনও জাতীয় গেমস বা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলে যেমন সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য মিলবে, তেমনই আয়োজক সংস্থাগুলিকেও সমপরিমাণ অর্থাৎ এক কোটি টাকা দেওয়া হবে।

রাজ্য স্তরের গেমস আয়োজনের জন্য বরাদ্দ থাকছে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।
পাশাপাশি, ‘অটল খেল সম্মান’-এর আওতায় বড়োসড়ো আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পে কোনও ক্রীড়াবিদ অলিম্পিকে সোনা জিতলে রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে এক কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। রুপো জিতলে মিলবে পঁচাত্তর লক্ষ টাকা এবং ব্রোঞ্জ জিতলে পাওয়া যাবে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা।

 কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসে পদকজয়ীদের জন্যও রয়েছে আর্থিক পুরস্কার।

সোনা, রুপো এবং ব্রোঞ্জ জেতার জন্য যথাক্রমে পঞ্চাশ লক্ষ, ত্রিশ লক্ষ এবং কুড়ি লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পদকজয়ীদের ক্ষেত্রে এই পুরস্কারের পরিমাণ হবে যথাক্রমে পঁচিশ লক্ষ, পনেরো লক্ষ এবং দশ লক্ষ টাকা।
অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের জন্যও বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা’-র আওতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এমন অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের মাসিক দশ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্যে খেলাধুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যেই সরকারের এই পদক্ষেপ। 

রাজ্য সরকারের আশা, এই আর্থিক সহায়তার ফলে ক্রীড়াবিদরা যেমন উৎসাহিত হবেন, তেমনই ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজ্য এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে। সব মিলিয়ে রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।