পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ব্রিটিশ ও নীলকরদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বাঁশের কেল্লার রূপকার তিতুমীরের নাম মুছে গেল বারাসতের মাটি থেকে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভবনের বহু পুরোনো ‘তিতুমীর সভাকক্ষ’-এর নাম বদলে রাখা হল ‘শ্যামাপ্রসাদ ভবন’। শুধু নামবদলই নয়, সভাকক্ষের দেওয়াল থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামী তিতুমীরের ছবি সরিয়ে সেখানে টাঙানো হয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি। বুধবার হিন্দু জাগরণ মঞ্চের একটি অনুষ্ঠান চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে।

জানা গিয়েছে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের ‘অখণ্ড ভারত সংকল্প’ সপ্তাহ উপলক্ষে এদিন ওই সভাকক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই সংগঠনের সদস্যরা এই নাম ও ছবি বদল করেন। এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা সঞ্জীব মাহাতো জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও হিন্দুদের সামাজিক জয় এখনও আসেনি। তাই অখণ্ড ভারতের সংকল্প নিয়েই এই নামবদল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনার রাজনৈতিক যুক্তি দিয়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপির আইনজীবী সেলের আহ্বায়ক নিমাই রায়ের দাবি, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তিতুমীরের তুলনায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান অনেক বেশি।

ইতিহাস বলছে, ১৯৮৬ সালের ২৬ জুন অবিভক্ত ২৪ পরগনা ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা গঠিত হওয়ার পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের এই সভাকক্ষটির নামকরণ করা হয় বাদুড়িয়ার ভূমিপুত্র তিতুমীরের নামে। ঊনবিংশ শতকে ব্রিটিশ শাসন এবং জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন তিনি, তৈরি করেছিলেন ঐতিহাসিক ‘বাঁশের কেল্লা’। দীর্ঘ কয়েক দশক পর সেই ঐতিহ্যের সাক্ষ্যবাহী সভাকক্ষ থেকেই মুছে ফেলা হল কৃষক বিদ্রোহের এই মহানায়কের নাম।