পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবতের নিউ ইয়র্ক সফরের আগেই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলল মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা সংস্থা (ইউএসসিআইআরএফ)। সংস্থার কর্তা আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং এই সংঘের সদস্য এবং এর বিভিন্ন শাখা সংগঠন ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালায়।
আরও পড়ুন:
আসিফের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে এনে ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলস জানিয়েছেন, সংঘ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন আধিকারিকদের কোনও উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করা বা তাঁদের কূটনৈতিক সৌজন্য দেখিয়ে সম্মানিত করা উচিত নয়। উলটে, ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের দায়ে আরএসএস-এর উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা আমেরিকার সরকারের কর্তব্য। পাশাপাশি, আমেরিকার মানবাধিকার সংগঠন ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’-ও ভগবতের এই আমেরিকা সফরের তীব্র সমালোচনা করেছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসেই একটি রিপোর্টে ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার খর্ব হওয়ার অভিযোগ তুলে আরএসএস এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-কে আমেরিকায় নিষিদ্ধ করার ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সুপারিশ করেছিল ইউএসসিআইআরএফ।আরও পড়ুন:
তবে আমেরিকার এই পদক্ষেপ নিয়ে পালটা প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে। যে দেশ ভারতকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পাঠ দিতে চাইছে, তাদের নিজেদের সমাজও পুরোপুরি বৈষম্যমুক্ত নয়। আমেরিকায় সাদা ও কালো চামড়ার মানুষদের মধ্যে বর্ণবৈষম্যের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যার অন্যতম চর্চিত উদাহরণ জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনা। নিজেদের দেশে এমন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ভারতের দিকে আঙুল তোলা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।