পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জীবিকার সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে গিয়ে কেরলের মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ ক্রমশ অতিরিক্ত রক্ষণশীল মনোভাবাপন্ন হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি বিশ্বব্যাঙ্কের একটি সমীক্ষায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যই উঠে এসেছে। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কেরলের মুসলিম সমাজকে আত্মসমীক্ষার বার্তা দিয়েছেন তিরুবনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে প্রকাশিত ‘বিয়ন্ড মানি: ডাজ মাইগ্রেশন এক্সপেরিয়েন্স ট্রান্সফার জেন্ডার নর্মস?’ শীর্ষক এই রিপোর্টটি মূলত ২০১৩ সালের কেরলের ‘মাইগ্রেশন সার্ভে’-র তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল।
বিশ্বব্যাঙ্কের তরফে ১৪টি জেলার ১৪,৫৭৫টি পরিবারের ৬৩,২৩০ জন সদস্যের ওপর এই বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হয়। মহিলাদের কর্মসংস্থান, গার্হস্থ্য হিংসা, লিঙ্গ-ভিত্তিক অধিকার এবং পারিবারিক সিদ্ধান্তের মতো পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়— সৌদি আরব ফেরত, অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশ (কুয়েত, কাতার, ওমান ইত্যাদি) ফেরত এবং প্রবাসী নন এমন সাধারণ মানুষ।আরও পড়ুন:
সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, সৌদি আরব থেকে ফেরা মুসলিমদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ মনে করেন, স্ত্রী অবাধ্য হলে তাঁকে মারধরের অধিকার স্বামীর রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ থেকে ফেরাদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৭ শতাংশ। শুধু তা-ই নয়, সৌদি ফেরত ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের মতে, বাড়ির মেয়েরা অবাধে বাইরে ঘোরাফেরা করলে পুরুষদের সম্মানহানি হয়।
এমনকি মহিলাদের বাইরে গিয়ে কাজ করাকেও তাঁরা অত্যন্ত ঘৃণার চোখে দেখেন।আরও পড়ুন:
বিশ্বব্যাঙ্কের এই রিপোর্ট সামনে আসতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তিনি লেখেন, কেরল বরাবরই ইসলামের উদার ও প্রগতিশীল চর্চা এবং মুসলিম মেয়েদের শিক্ষায় এগিয়ে থাকার জন্য পরিচিত। বিদেশ থেকে এই ধরনের চরম রক্ষণশীল মনোভাব আমদানি করা কেরলের নিজস্ব ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুসলিম সমাজকে নিজেদের মধ্যে গভীরভাবে আত্মবিশ্লেষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।