উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গণ্ডগোলের জেরে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বারুইপুরে। মৃত বাপি প্রামাণিক-এর বয়স ৪৫ বছর। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারুইপুর থানার ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের পরিবার ও বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে খুন করেছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপি প্রামাণিক তৃণমূল হার্মাদ বাহিনীর দাপটে প্রায় ১৮ বছর ঘরছাড়া ছিলেন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়ির সামনে গত এক মাস আগে তিনি একটি মুদিখানা দোকান দিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। রবিবার রাতে এলাকায় বিজেপি কর্মীদের একটি বৈঠক ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, সেই বৈঠক থেকে ফেরার সময় কয়েকজন বিজেপি কর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। সেই সময় বাপি সেখানে ছিলেন না। পরে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে বাপি প্রামাণিক-এর কাছে ফোন আসে। খবর পাওয়ার পর তিনি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।আরও পড়ুন:
অভিযোগ, রাস্তায় বেরোনোর পরই তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। প্রথমে তাঁকে মারধর করা হয় এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীর চোখের সামনেই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন বাপি প্রামাণিক। স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
মৃতের ছেলে জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে তাঁর বাবার কাছে একটি ফোন এসেছিল। ফোন পাওয়ার পর বাবা-মা দুজনেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে রাতে তাঁকে ফোন করে ঘটনার কথা জানানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রাক্তন আইপিএস তথা বিজেপির বিধায়ক দেবাশিস ধর বলেন, বারুইপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ করা উচিত। বারুইপুরে যাঁরা আমাদের কর্মীদের ওপর অত্যাচার করতেন, তাঁদের গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠছিল। তার জন্যই এই বাড়বাড়ন্ত। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা ও পরে মারামারি হয়।
সেই সংঘর্ষেই বাপি প্রামাণিক গুরুতর জখম হন। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস। তিনি জানান, বারুইপুর থানার ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারি হয়। সেই সময় বাপি প্রামাণিক গুরুতর জখম হন এবং বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুজো কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদ কীভাবে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে পরিণত হল এবং এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।