পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : দীর্ঘ রাজনৈতিক বঞ্চনা ও অসহযোগিতার অতীত পেরিয়ে বাংলায় এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল মিলতে শুরু করেছে। রবিবার গার্ডেনরিচে আয়োজিত এক কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমনই দাবি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই)-এর উদ্যোগে রাজ্যে মোট ৩,৪০০ কোটি টাকার পাঁচটি প্রকল্পের সূচনা হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট বার্তা দেন, শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সব রকম সাহায্য করবে রাজ্য।
এই বিপুল বিনিয়োগের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে কথা দিয়েছিলেন বাংলায় বিনিয়োগ আনবেন।

আপনি কথার দাম রেখেছেন। আজকের দিনটি বাংলার জন্য ঐতিহাসিক।’ এদিন রায়চক শিপইয়ার্ড, টিম্বার পন্ড শিপ বিল্ডিং ফেসিলিটি, দামোদর শিপ বিল্ডিং ফেসিলিটি, রেডিয়াল ফোর্জিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন ডাই ফোর্জিং প্রেস; এই পাঁচটি প্রকল্পের ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়। জিআরএসই এবং এমএসএমই সেক্টরের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জমির জট বা অন্য কোনও প্রশাসনিক সমস্যা রাজ্য সরকার আর হতে দেবে না। কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে কাজ করে বাংলাকে বিনিয়োগের মূল গন্তব্যে পরিণত করবে।
শিল্পায়নের প্রসঙ্গের পাশাপাশি এদিনের মঞ্চ থেকে পূর্বতন তৃণমূল ও বাম সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে জমি, পরিকাঠামো বা মানবসম্পদের কোনও অভাব না থাকলেও আগের সরকারগুলির সদিচ্ছার অভাব ছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘৩৪ বছরের কমিউনিস্ট এবং ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে শুধু বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করা হয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার কোনও ইচ্ছাই এদের ছিল না। ফলে রাজ্যকে ভুগতে হয়েছে।’ তাঁর দাবি, রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই নেতিবাচক রাজনীতির অবসান ঘটেছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর পাশাপাশি ‘বিকশিত বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই বর্তমান সরকার এগোচ্ছে।
নতুন সরকারের ১০৬ দিনের মাথায় রাজ্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাকেও বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমির ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৬ সালে রাজনাথ সিং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন সীমান্ত সুরক্ষার জন্য জমির আবেদন করে রাজ্যকে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন সরকার তা দেয়নি। দেশের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বর্তমান সরকার সেই বকেয়া কাজ সম্পন্ন করেছে বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি রাজ্যে জনগণনা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আগের সরকারের অসহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, জিআরএসই-র মতো সংস্থার অনুষ্ঠানে দীর্ঘকাল ধরে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীরা কখনও উপস্থিত থাকতেন না। কেন্দ্রের কর্মসূচিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই যোগদানকে সমন্বয়ের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে দাবি করেন তিনি। বক্তব্য শেষে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘অপারেশন সিন্ধু’ এবং শত্রুদের মোকাবিলায় ‘ব্রহ্মস’ ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে ভারত আজ বিশ্বে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দিশা দেখাচ্ছে। স্বামী বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি, চরৈবেতি’ মন্ত্রকে পাথেয় করেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আগামী দিনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।