উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়  : কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও বাঘের মৃত্যু।সুন্দরবনের ঝড়খালির সুন্দরবন পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরপর দুটি বাঘের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এবার মৃত্যু হল প্রায় ১৬ বছর বয়সি পুরুষ বাঘ ‘সুন্দর’-এর।শনিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বন আধিকারিক নিশা গোস্বামী জানিয়েছেন, গত ১২ দিন ধরে সংক্রমণ জনিত সমস্যায় ভুগছিল ‘সুন্দর’। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা চলছিল।

বাঘটিকে সুস্থ করে তুলতে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে সমস্ত রকম চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।দীর্ঘদিন ধরেই ঝড়খালির এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছিল ‘সুন্দর’। প্রায় ১৬ বছর বয়সে পৌঁছে বাঘটির শরীরে বয়সজনিত নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। তার সঙ্গে সংক্রমণজনিত অসুস্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। টানা ১২ দিন চিকিৎসা চললেও শনিবার ভোরে মৃত্যু হয় তার।‘সুন্দর’এর মৃত্যুতে শুধু ঝড়খালি পুনর্বাসন কেন্দ্রেই নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে বন্যপ্রাণ প্রেমীদের মধ্যেও।
কারণ, কয়েক দিন আগেই একই কেন্দ্রে মৃত্যু হয়েছিল ‘সুন্দরী’ নামে একটি বাঘিনীর। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার মৃত্যু হল ‘সুন্দর’-এর। একই পুনর্বাসন কেন্দ্রে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি বাঘের মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।যদিও বন দপ্তরের পক্ষ থেকে ‘সুন্দর’-এর অসুস্থতার জন্য সংক্রমণের কথা জানানো হয়েছে, তবুও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। পরপর দুটি বাঘের মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার শুধু এই অঞ্চলের গর্ব নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিপন্ন বন্যপ্রাণী।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আহত, অসুস্থ কিংবা বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা বাঘেদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য ঝড়খালির মতো পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলির গুরুত্বও তাই অপরিসীম।একটি বাঘের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণের হারিয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র, জীববৈচিত্র্য এবং বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের বৃহত্তর প্রশ্ন। তাই প্রতিটি বাঘের মৃত্যু সংরক্ষণবিদ ও বন্যপ্রাণ প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ‘সুন্দরী’ ও ‘সুন্দর’-কে হারিয়ে ঝড়খালির পুনর্বাসন কেন্দ্র এখন শোকস্তব্ধ। পাশাপাশি পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনা ভবিষ্যতে এই ধরনের পুনর্বাসন কেন্দ্রে বাঘেদের চিকিৎসা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যপরিচর্যার ব্যবস্থা নিয়ে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনে দিয়েছে।