পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হওয়ার আশায় ফের বুক বাঁধছেন পাহাড়বাসী। এই সমস্যার জট কাটাতে শনিবার সুকনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে পাহাড়ের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের এক হাইভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বৈঠক ডাকাকে কেন্দ্র করে পাহাড়জুড়ে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পৃথক গোর্খাল্যান্ড বা পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের দাবি দীর্ঘদিনের। বাম ও তৃণমূল আমলে যথাক্রমে ডিজিএইচসি এবং জিটিএ গঠন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হলেও পাহাড়বাসীর মূল দাবি অধরাই রয়ে গিয়েছিল।
বর্তমানে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় রয়েছেন তাঁরা। শনিবারের বৈঠকে অমিত শাহের কাছে পাহাড়ের নেতাদের প্রধান দাবি হতে চলেছে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান। এর পাশাপাশি জিটিএ বোর্ড গঠন, পাহাড়ে পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন করানো, স্বচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের দাবিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে। সুকনার যে হোটেলে অমিত শাহ রয়েছেন, সেখানেই এই বৈঠক হবে। উপস্থিত থাকবেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা, বিধায়ক নোমান রাই, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং এবং সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। এছাড়া রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মনেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।আরও পড়ুন:
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক প্রসঙ্গে দার্জিলিঙের বিধায়ক নোমান রাই জানান, পাহাড়ে থমকে থাকা নানা উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা, বকেয়া নির্বাচনগুলি সম্পন্ন করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য তাঁরা আবেদন জানাবেন। অন্যদিকে, সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে পাহাড় নিয়ে অনেক ভেদাভেদ হয়েছে, তবে বিজেপির আমলে তা হবে না। তাঁর দাবি, পাহাড় নিয়ে স্থায়ী সমাধানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা খুব শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে এবং সেই উদ্দেশ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বৈঠক করছেন।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যেই পাহাড় ঘুরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীকালে কলকাতায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখাও করেছেন বিমল গুরুং ও রোশন গিরি। গত বৃহস্পতিবার দার্জিলিঙে নেপালি দিবস পালনের অনুষ্ঠানেও বিমল গুরুং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এবং এই দাবি আদায়ের জন্যই তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবেন।