পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শরীরচর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার জন্য দৌড়াতেই হবে এমন নয়। নিয়মিত হাঁটা এবং দৌড়—দুটিই রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনটি বেশি উপকারী তার চেয়ে নিয়মিত কোনটি করা সম্ভব, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসক অলুওয়াতোসিন আজাওয়ের মতে, সপ্তাহে ৩ থেকে ৫ দিন, প্রতিদিন ২০ থেকে ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটলে হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমতে পারে। নিয়মিত হাঁটা উপরের এবং নিচের—দুই ধরনের রক্তচাপই কমাতে পারে।

 একটি গবেষণার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাঁটার ফলে সিস্টোলিক রক্তচাপ গড়ে প্রায় ৪ mmHg এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ প্রায় ২ mmHg কমতে পারে।
হাঁটার আরও একটি উপকার হল, এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত চাপ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত হাঁটলে শরীরের স্ট্রেস বা চাপের প্রতিক্রিয়া কমতে পারে। এমনকি দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর অল্প সময় হাঁটাহাঁটিও উপকারী হতে পারে। হাঁটার ফলে রক্তনালির কার্যকারিতা ভালো হয় এবং রক্ত চলাচল সহজ হয়।

অন্যদিকে, দৌড়ালে রক্তচাপ কিছুটা বেশি কমতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দৌড়ানোর ফলে সিস্টোলিক রক্তচাপ প্রায় ৪.২ mmHg এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ প্রায় ২.৭ mmHg কমতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি দেখা গেছে। তাঁদের সিস্টোলিক রক্তচাপ গড়ে ৫.৬ mmHg এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৫.২ mmHg পর্যন্ত কমেছে।


দৌড়ানোর ফলে হৃদ্‌যন্ত্র শক্তিশালী হয় এবং রক্তনালির কার্যকারিতাও উন্নত হয়। নিয়মিত দৌড় বা অন্য ধরনের ব্যায়াম রক্ত চলাচল সহজ করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে রক্তনালি শক্ত হয়ে যাওয়ার যে ঝুঁকি তৈরি হয়, নিয়মিত শরীরচর্চা তা কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু রক্তচাপ কমানোর জন্য হাঁটার বদলে দৌড় বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ দৌড়ানোর জন্য বেশি পরিশ্রম ও সহনশক্তি দরকার। অনেকের পক্ষে নিয়মিত দৌড়ানো কঠিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত হাঁটাই ভালো। আবার যাঁরা দৌড়াতে স্বচ্ছন্দ, তাঁরা দৌড়াতে পারেন।

সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা, যেমন দ্রুত হাঁটা বা ধীরে দৌড়ানো, করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অথবা সপ্তাহে ৭৫ মিনিট বেশি পরিশ্রমের ব্যায়াম করা যেতে পারে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দু’দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করাও উপকারী।
তবে দীর্ঘদিন শরীরচর্চা না করলে হঠাৎ জোরে দৌড়ানো শুরু করা উচিত নয়। ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়াতে হবে। ব্যায়াম করার সময় বুকে ব্যথা বা চাপ, মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্‌স্পন্দন অস্বাভাবিক মনে হলে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হাঁটা না দৌড়—রক্তচাপের জন্য কোনও একটিকে সেরা বলা যায় না। যে ব্যায়াম নিয়মিত করা যায়, সেটিই বেশি উপকারী।