পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বৃহস্পতিবার অভিযোগ করলেন, দেশে চলা জনগণনা প্রক্রিয়া আসলে এসআইআর, এনআরসি এবং সিএএ-রই ধারাবাহিকতা। তাঁর দাবি, জনগণনার নামে মানুষের উপর সন্দেহ চাপানো এবং হয়রানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় বিজেপি, আরএসএস এবং এবিভিপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুললেন তিনি।
সেলিম বলেন, তএই জনগণনা কোনও স্বচ্ছ বা দায়বদ্ধ প্রক্রিয়া নয়। মানুষকে চিহ্নিত করে হয়রানি করাই এর উদ্দেশ্য। সরকার জনগণকে বিশ্বাস করে না বলেই এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে। ফলে মানুষেরও সরকারের উপর আস্থা কমছে।

দ তাঁর বক্তব্য, ১৮৭১ সাল থেকে জনগণনা হয়ে আসছে। নির্ধারিত দশ বছরের ব্যবধানেও এবার তা করা হয়নি। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কথা বললেও মানুষকে ৪০টি প্রশ্নের মুখোমুখি করা হচ্ছে।
যাদবপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, তমুক্ত চিন্তা, বৈজ্ঞানিক শিক্ষা এবং গবেষণার কেন্দ্রগুলিকে আক্রমণ করা হচ্ছে। যাদবপুর, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া মিলিয়া ও হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় উৎকর্ষের প্রতিষ্ঠান। সেখানে কর্পোরেট-সাম্প্রদায়িক যোগের শিক্ষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।দ তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় বিধায়কের উপস্থিতিতে সংঘ পরিবার পরিকল্পিত ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে এবং প্রশ্ন তোলা ছাত্রদের ‘দিমাগি নকশাল’ বলা হয়েছে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের এবিভিপির সঙ্গে দূরত্বের দাবি নিয়েও কটাক্ষ করেন সেলিম। তাঁর প্রশ্ন, তএবিভিপির সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক না থাকলে সেখানে বিজেপির বিধায়ক কী করছিলেন? বিজেপি সভাপতি বলছেন, দলের ছাত্র সংগঠন নেই, অথচ এসএফআইকে নিশানা করা হচ্ছে।দ তাঁর দাবি, তভয় আউট, ভরসা ইনদ বললেও বোমা ছুড়ে ভয় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও সরব হন সেলিম। তাঁর অভিযোগ, যাদবপুরে পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখেছে, ইন্দাসের ঘটনায় এফআইআর করতেও দেরি হয়েছে এবং গণপিটুনির সংßৃñতি তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, তারাপীঠে আগুনে মৃত্যু এবং কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডে ন’জনের মৃত্যুর পরও সরকার দায় না নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকে দোষারোপ করছে।

সেলিম বলেন, তবাম, র‌্যাডিক্যাল বাম এবং শক্তিকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে। বিভাজনের রাজনীতি তরুণ প্রজন্ম মানছে না।দ তাঁর অভিযোগ, আইআইটিও ধ্বংসের পথে। ত্রাণ বণ্টনেও রাজনীতি হচ্ছে; মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে ঘুরলেও ১৯৭৮ সাল থেকে ত্রাণ অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না।
সেলিম আরও বলেন, বিজেপি ‘ভাল তৃণমূল’ খুঁজতে গিয়ে নিজের পরিচয় হারিয়েছে। কাজল শেখের কালো টাকা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে বীরভূমে কালো টাকা, বেআইনি বালি খনন ও পাচার বন্ধ হয়েছে কি না, বিজেপিকে তা জানাতে বলেন তিনি। অন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়েও ক্ষোভ জমছে বলে দাবি করে তাঁর মন্তব্য, তা একদিন দাবানল হতে পারে।