পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পড়ুয়াদের দীর্ঘ আন্দোলনের জেরে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) দু’টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করেছিল রাজ্যের হেমন্ত সোরেন সরকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে এবার স্থগিতাদেশ দিল ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট। এর ফলে রাজ্য সরকার কার্যত শাঁখের করাতের মুখে পড়েছে। আদালতের এই নির্দেশের পরেই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা।
আরও পড়ুন:
জেপিএসসি-র ১১তম এবং ১৩তম পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মীদের নিয়োগ বাতিলের যে বিজ্ঞপ্তি সরকার জারি করেছিল, বৃহস্পতিবার আদালত তার কার্যকারিতা স্থগিত করে দিয়েছে। পাশাপাশি, খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশটির উপরেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। বাতিল হওয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরাই সরকারের এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিচারপতি দীপক রোশন জানিয়েছেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে তাদের বিস্তারিত জবাব আদালতে জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে জেপিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীরা আপাতত নিজেদের পদেই বহাল থাকবেন। তবে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তদন্ত চলাকালীন যদি কোনও প্রার্থীর নিয়োগে দুর্নীতি বা কারচুপি প্রমাণিত হয়, তবে তাঁকে চাকরি খোয়াতে হবে এবং পরিণাম ভোগ করতে হবে।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘ ২৭ দিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের চাপে সরকার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও, হাই কোর্টে তারা নিজেদের সপক্ষে জোরালো যুক্তি দিতে পারেনি বলেই অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। একদিকে দুর্নীতির অভিযোগে পড়ুয়াদের কড়া আন্দোলন, অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনে আদালতের এই স্থগিতাদেশ দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে বর্তমানে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন সরকার।