পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের রেশ শুক্রবারও অব্যাহত। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে নন্দলাল বসুর তৈরি প্রতীক ভাঙচুর এবং ক্যাম্পাসে 'গেরুয়া সন্ত্রাসে'র প্রতিবাদে শুক্রবার মাঠে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রচুর বহিরাগত অংশ নিয়েছিলেন। এসএফআই, ডিএসও এবং আইসা-র ওই সমবেত মিছিলে 'আজাদি' স্লোগান ওঠার পাশাপাশি পড়ুয়াদের হাতে মাওবাদী স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘জুটা’ আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জুটা-র সম্পাদক রাজ্যেশ্বর রায় এই জমায়েতকে বহিরাগতদের আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদে শামিল হতে অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় জানান তিনি এই ইস্যুভিত্তিক প্রতিবাদকে সমর্থন করেন। এর ফলে শিক্ষকদের একাংশ মিছিলে হাঁটেননি।

তবে বাকিরা মিছিল করে ঢাকুরিয়া পর্যন্ত যান এবং সেখান থেকে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতীকটি পুনরায় লাগিয়ে দেন।

এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এবিভিপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে যাদবপুর ক্যাম্পাসে 'শহুরে নকশাল' এবং দেশবিরোধীরা সক্রিয়। বাম ছাত্র সংগঠনগুলি বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করে এসেছে। তবে শুক্রবারের মিছিলে ওঠা স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড এবিভিপি-র সেই পুরনো অভিযোগকেই ফের উসকে দিল।