পুবের কলম, নয়াদিল্লি: বন্ধ ঘর বা এমন কোনও ব্যক্তিগত জায়গায়, যেখানে সাধারণ মানুষের দেখার বা শোনার সুযোগ নেই, জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করা হলে তা তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯-এর আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না, এমনটাই জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি প্রাশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে এই আইনের ৩(১)(আর) এবং ৩(১)(এস) ধারার ব্যাখ্যা করেছে। এই ধারাগুলির ক্ষেত্রে অভিযোগটি এমন জায়গায় হতে হবে, যা ‘পাবলিক ভিউ’ বা সাধারণ মানুষের নজরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলাটির সূত্রপাত দিল্লির একটি পারিবারিক বিরোধ থেকে। অভিযোগ ছিল, এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে তালা খোলাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট পূর্ববর্তী কয়েকটি রায়ের উল্লেখ করে ‘পাবলিক ভিউ’ এবং ‘পাবলিক প্লেসে’র মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট করেছে। কোনও জায়গা ব্যক্তিগত হলেও সেটি সাধারণ মানুষের নজরের মধ্যে থাকতে পারে—যেমন রাস্তা থেকে দেখা যায় এমন বাড়ির সামনের অংশ। কিন্তু একটি বন্ধ ঘরের ভিতরে, যেখানে বাইরের মানুষের দেখার বা শোনার সুযোগ নেই, সেই ঘটনা একইভাবে ‘পাবলিক ভিউ'য়ের মধ্যে পড়বে না।
এই মামলায় আদালত দেখেছে, অভিযোগে এমন কোনও তথ্য নেই যা প্রমাণ করে যে কথিত জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যগুলি জনসমক্ষে বা জনসাধারণের নজরের মধ্যে করা হয়েছিল। ফলে এসসি/এসটি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির অপরাধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্তই পূরণ হয়নি। সেই কারণে আদালত সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রম বাতিল করে দেয়।
তবে রায়ের অর্থ এই নয় যে ব্যক্তিগত পরিসরে জাতিবিদ্বেষী আচরণ সব ক্ষেত্রেই আইনত বৈধ। কোনও অভিযোগ এসসি/এসটি আইনের আওতায় আনতে হলে ঘটনার স্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ওই শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রায়টি জাতপাতভিত্তিক অপমান ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনারও অবকাশ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, কঠোর দণ্ডবিধি প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত প্রতিটি অপরিহার্য উপাদান অভিযোগ ও প্রাথমিক তথ্যের মধ্যে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।