পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের গায়ে ক্রমাগত ‘দেশদ্রোহী’ তকমা সাঁটানো নিয়ে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। বারংবার এই ধরনের অভিযোগের প্রতিবাদে এবার আইনি পথে হাঁটলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অপবাদের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে গত শুক্রবার রাতে যাদবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বাম ছাত্র সংগঠন। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল দাস-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার এই ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। যাদবপুরকে একটি ‘বিচ্ছিন্ন দ্বীপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, সেখানে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁর মতে, ঘেরাও আন্দোলনের সংস্কৃতি সেখানকার পড়ুয়াদের রক্তে মিশে গেলেও এখন সময় পাল্টেছে। একই সুরে মন্তব্য করে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভাঙার মতো ঘটনা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।

গেরুয়া শিবিরের এই আক্রমণের পালটা কড়া জবাব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আরএসএফ-এর পক্ষ থেকে ইন্দ্রানুজ রায়ের অভিযোগ, বিজেপি এবং আরএসএস বিভাজনের রাজনীতি করে দেশকে টুকরো করতে চাইছে। ডিএসও নেতা শুভাশিস জানা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, যাদবপুরের ইতিহাস বরাবরই গণতন্ত্রের পক্ষে এবং অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস। এসএফআই নেতা অঞ্জিল দাস দেশের চন্দ্রযান অভিযানে যাদবপুরের প্রাক্তনীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে কটাক্ষের সুরে বলেন, শাসকদলের আদর্শ নাথুরাম হলেও, যাদবপুরের আদর্শ ক্ষুদিরাম বসু। সরকারের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা কখনই রাষ্ট্রদ্রোহিতা হতে পারে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আইসা নেত্রী সৌমিলি দাস।