পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : নিউ মার্কেটের শিখা-ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে নেমে দমকলের লাইসেন্স প্রদান নিয়ে চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, দমকলের কিছু প্রাক্তন স্টেশন অফিসারকে নগদ দেড় থেকে দু’লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে অনায়াসেই ‘ফায়ার সেফটি’ সার্টিফিকেট হাতিয়েছেন ওই এলাকার একাধিক ঘুপচি হোটেলের মালিকরা। এর সঙ্গে আরও প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে মিলেছে ‘ফায়ার লাইসেন্স’। আর এই শংসাপত্রগুলি দেখিয়েই পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স এবং বিদ্যুৎ সংযোগ আদায় করে নিশ্চিন্তে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন লিজ হোল্ডাররা।

এই ঘটনার পর স্বভাবতই পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এবং বিশেষজ্ঞদের কড়া নজরদারিতে রয়েছেন গত ১০ থেকে ১২ বছরে দমকল দপ্তরের সদর দপ্তরে দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা। দমকল দপ্তরেরই এক শীর্ষ কর্তা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এই শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনেকেই পোস্টিং পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে নতুন গাড়ি কিনেছেন। এখন তদন্ত শুরু হওয়ায় তাঁরা গ্রেপ্তারি আতঙ্কে ভুগছেন। সূত্রের খবর, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার কারণে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নিউ মার্কেট এলাকার আরও প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি বেআইনি হোটেল সিল করে দেওয়া হতে পারে।

এই দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে গিয়ে অতীতের কিছু তথ্যও সামনে আসছে। ২০০৩ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে কর্মী সঙ্কটের কারণে বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে এই নজরদারির দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দমকলের তৎকালীন শীর্ষ কর্তাদের এবং রাজনৈতিক স্তরের আপত্তিতে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। দমকলের প্রাক্তন অধিকর্তা বিভাস গুহর দাবি, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব হত। পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের আমলে অনলাইনে আবেদন এবং ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ পদ্ধতি চালু হলে শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা চলে যায় স্টেশন অফিসার বা ডিরেক্টরদের হাতে। অভিযোগ, এরপর থেকেই মোটা টাকার বিনিময়ে দিঘা থেকে শুরু করে নিউ মার্কেট সর্বত্র চোখ বুজে এই লাইসেন্স বিলি করে গিয়েছেন একাংশ অসাধু আধিকারিক।