পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : বিধানসভার গ্রন্থাগার থেকে নেওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৯টি অমূল্য বই এখনও ফেরত দেননি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্যু হওয়া এই বইগুলির মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র রচনাবলীর ১৮টি খণ্ড এবং একটি সঞ্চয়িতা। সাহিত্য ও শিল্পের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগের কথা সকলেরই জানা। মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে পড়ার জন্যই তিনি বইগুলি নিয়েছিলেন।

কিন্তু গত ৪ মে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এবং নিজের কেন্দ্রে পরাজিত হয়ে তিনি বিধানসভার সদস্যপদও হারিয়েছেন। তা সত্ত্বেও বইগুলি নির্দিষ্ট স্থানে জমা না পড়ায় রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন গ্রন্থাগারের কর্মীরা।

বাধ্য হয়ে গ্রন্থাগারের তরফ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বইগুলি তাঁর ব্যক্তিগত হেফাজতে বা বাড়িতে নেই, বরং বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত চেম্বারেই রাখা আছে।

বর্তমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, ফলে ওই দপ্তর এখন তাঁরই অধীন। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, সশরীরে বইগুলি গ্রন্থাগারে না ফেরা পর্যন্ত খাতায়-কলমে সেগুলিকে 'ফেরত' হিসেবে গণ্য করা যায় না। অন্যদিকে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি ছাড়া গ্রন্থাগারের কর্মীদের পক্ষে তাঁর ঘরে প্রবেশ করে বইগুলি নিয়ে আসাও সম্ভব নয়। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি অদ্ভুত জটিলতা তৈরি হয়েছে।

একই রকম সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও। তাঁর নামেও ১২টি বই ও গুরুত্বপূর্ণ নথি ইস্যু করা ছিল। তিনিও জানিয়েছেন যে জিনিসগুলি স্পিকারের দপ্তরেই রাখা আছে, যে কারণে কর্মীরা সেগুলিও ফেরত নিতে পারছেন না। তবে সকলেই যে এই পথে হেঁটেছেন তা নয়। রাজ্যে পালাবদলের পরেই প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে তাঁর এক সহযোগীর মাধ্যমে নিজের নামে ইস্যু হওয়া সমস্ত বই গ্রন্থাগারে ফিরিয়ে দিয়েছেন। গ্রন্থাগারের আধিকারিকদের আক্ষেপ, নিয়ম মেনে প্রত্যেকেই যদি এভাবে বই ফেরত দেওয়ার সৌজন্য দেখাতেন, তাহলে তাঁদের এমন অনভিপ্রেত সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো না।