পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রবিবার সকালে নিজের বাড়ি সংলগ্ন পার্টি অফিস থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, আশিসবাবুকে কেউ ব্ল্যাকমেল করে থাকতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, নির্বাচনের পর তিনি দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন।

নিজের তৈরি করা কমিটি থেকেও তিনি পদত্যাগ করেন। তাই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে থাকতে পারে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ ও জেলাশাসককে নিরপেক্ষভাবে ময়নাতদন্ত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, মৃতের মোবাইল ফোন এবং উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটটিও খুব ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এদিন সকালে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সাংসদ অসিত মালের মাধ্যমে নিহতের পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আশিসবাবুর অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক ছিল। এমনকি বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা তাঁর বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদও নিয়ে এসেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আশিসবাবুর বিরুদ্ধে থানায় কোনও এফআইআর ছিল না এবং পুলিশ কখনও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানাতেও ডাকেনি।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে একজন সৎ মানুষ, শিক্ষাবিদ এবং সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর রাজনৈতিক সঙ্গীদের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বগটুই কাণ্ডের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। জানা গিয়েছে, তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ বা টিআরডিএ-র দুর্নীতিতে তাঁর নাম জড়ানোয় তিনি মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েছিলেন। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কালিমালিপ্ত করা হয়েছে। এই অপমানের জেরেই তিনি দীর্ঘ অবসাদে ভুগছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে।