পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস বিতর্কের মাঝেই এবার ছত্তিশগড়ে প্রকাশ্যে এল এক অভিনব উপায়ে প্রশ্নপত্র চুরির ঘটনা। মুখবন্ধ খামে সুচ দিয়ে সামান্য ছিদ্র করে তার ভিতর এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরা ঢুকিয়ে প্রশ্নপত্রের ছবি তোলার অভিযোগে এক অধ্যাপক-সহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর প্রশ্নফাঁস ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে শিক্ষা মহলে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, ছত্তিশগড়ের ইন্দিরা গান্ধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইজিকেভি) অধীনস্থ ২৮টি কলেজে গত ২০ অগস্ট স্নাতকস্তরের দ্বিতীয় বর্ষের কীটতত্ত্ব (এন্টোমোলজি) বিষয়ের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগেই পড়ুয়াদের মোবাইলে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ায় তা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।
ওই দিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সেলের দায়িত্বে থাকা বিজ্ঞানী তথা অধ্যাপক এন আর রাঙ্গারে ইমেলে প্রশ্নফাঁস হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ পাওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই সাইবার সেলের পুলিশ তদন্তে নেমে দুর্গের ভারতীয় কৃষি কলেজের অভিযুক্ত অধ্যাপক যোগেশ সোনকেসারিয়া এবং পাঁচ পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে।আরও পড়ুন:
কীভাবে ঘটেছিল এই ঘটনা? তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত অধ্যাপক গত ১৭ অগস্ট রায়পুরের জোরায় একটি কলেজে উত্তরপত্র জমা দিতে যান। সেখান থেকে ফেরার সময় তিনি অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে কীটতত্ত্বের প্রশ্নপত্রের মুখবন্ধ খামটিও সংগ্রহ করেন।
বাকি খামগুলি জমা দিলেও কীটতত্ত্বের খামটি তিনি নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর বাজার থেকে একটি পাতলা এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরা কিনে ওই খামে সুচ দিয়ে ছোট ছিদ্র করেন। সেই ছিদ্রপথে ক্যামেরা ঢুকিয়ে তিনি গোটা প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে নেন। পরীক্ষার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ১৯ অগস্ট ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে তিন পড়ুয়ার কাছে সেই ছবি বিক্রি করে দেন তিনি। পরে টাকার বিনিময়ে তা আরও অনেকের কাছে ছড়িয়ে পড়ে।আরও পড়ুন:
সাইবার সেলের ডিসিপি স্মৃতিক রাজনালা জানান, ১০০ জনেরও বেশি পুলিশকর্মীর একাধিক দল এই ঘটনার তদন্তে নামে। সমাজমাধ্যমের পোস্ট, মেসেজ ও ইমেল খতিয়ে দেখে দুর্গের এক কলেজছাত্র অনুজ মিঞ্জলকে প্রথমে শনাক্ত করা হয়। তাঁকে জেরা করেই গোটা চক্রের হদিস মেলে। অধ্যাপক এবং অনুজ ছাড়াও অজয় নায়েক, ত্রিদেব পটেল, মিতিন পান্ডে ও আদিত্য সাহুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও দুই সন্দেহভাজনের খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।