পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বাঁকুড়ার ইন্দাসে ককরোচ জনতা পার্টির বা সিজেপি কর্মী এক সমর্থকের বাড়িতে ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় নিহতের বাবাকে পিটিয়ে হত্যার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। যদিও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তোলা হয়েছে, তবে রবিবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা সকলেই দুষ্কৃতী এবং তাদের সঙ্গে বিজেপির কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে নাম থাকা পাঁচজন অভিযুক্তের মধ্যে তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা তরুণ আবদুল হাফিজ গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে সিজেপি কর্মী হিসেবে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে রাজীব চকে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাঁকে।

২৭ জুলাই গ্রামে ফিরে তিনি স্থানীয় করিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার একটি ভিডিও ধারণ করেন। মূলত সিজেপি বর্তমানে দেশজুড়ে স্কুলগুলির উন্নয়ন নিয়ে আন্দোলন চালাচ্ছে এবং হাফিজ সেই কাজেই সমর্থন জোগাচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

হাফিজের পরিবারের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়।

হাফিজকে ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি তাঁর ফোন কেড়ে নিয়ে স্কুলের সেই ভিডিও মুছে দেওয়া হয়। ছেলেকে দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন তাঁর একান্ন বছর বয়সি বাবা শেখ মহম্মদ মাফিকও। হামলাকারীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। মারধরের জেরে ১৪ আগস্ট মাফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে পুলিশি পাহারায় ইন্দাস হাসপাতাল ও পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। একজন সিজেপি কর্মী পরিবারের ওপর এমন আক্রমণ নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।