পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, দক্ষিণ সুদানে শিক্ষা চালু রাখতে নিজেদের কষ্টকেই যেন পুঁজি করেছেন বহু শিক্ষক। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সরকারি বেতন না পেলেও নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছেন তাঁরা। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থায় বিপর্যস্ত দেশটিতে শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ করে চলেছেন শিক্ষকরা।

রাজধানী জুবার গুম্বো বেসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ৬৭ বছরের পল সান্তিনো তাঁদেরই একজন। প্রতিদিন প্রায় চার মাইল পথ পেরিয়ে স্কুলে পৌঁছন তিনি।

শিক্ষক ও পড়ুয়াদের দেখভাল, ক্লাসের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ—সবই করেন নিয়ম মেনে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর নিজের কোনও বেতন নেই। সংসারে স্ত্রী ও ছয় সন্তান থাকলেও স্কুলের দায়িত্ব থেকে সরে যাননি তিনি।

সান্তিনোর মতো একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন ওই স্কুলের অন্য শিক্ষক-কর্মীরাও। সরকারি অর্থের অভাবে দেশের বহু স্কুলেই নিয়মিত বেতন পৌঁছচ্ছে না।

কোথাও কোথাও পড়ুয়াদের পরিবারের সামান্য আর্থিক সহায়তায় স্কুলের দৈনন্দিন কাজ চালানো হচ্ছে।

স্বাধীনতার পরও দক্ষিণ সুদানের শিক্ষা ব্যবস্থা নানা সমস্যায় আটকে রয়েছে। ২০১১ সালে সুদান থেকে স্বাধীন হওয়ার পর উন্নয়নের আশা তৈরি হলেও রাজনৈতিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক সংকট সেই পথ কঠিন করে তুলেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক স্কুলে যাওয়ার বয়সি শিশুদের একটি বড় অংশ এখনও শিক্ষার বাইরে।

এর মধ্যেও সান্তিনোর মতো শিক্ষকরা মনে করেন, শিক্ষা বন্ধ হয়ে গেলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হবে। তাঁর কথায়, শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, দেশের পরিবর্তনের পথও। তাই পারিশ্রমিক না পেলেও তিনি স্কুলে আসা বন্ধ করেননি।