সেখ কুতুবউদ্দিন: মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ কী এবার স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) মাধ্যমে করতে চায় রাজ্য সরকার। সেই জন্য পশ্চিমবঙ্গ  মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের 'বর। একইসঙ্গে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তত্ত্বাবধানে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এতদিন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের অধীনে ছিল। সরকার অনুমোদিত ৬১৪ টি মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া হাতে ছিল পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের। 

এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলোপ করে তাকে রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) এবং  এবং আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চ শিক্ষা দফতরের তত্ত্বাবধানে আনা হচ্ছে। এই সমগ্র বিষয়টির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আধিকারিক। এই বিষয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু পুবের কলমকে শনিবার জানান, মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ করত পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন। এবার এই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে স্কুল সার্বিস কমিশনের হাতে।

উল্লেখ্য, মাদ্রাসাগুলিতে হিন্দু-মুসলিম উভয় ধর্মের মানুষরাই শিক্ষক পদে নিযুক্ত হন। 

স্কুল সার্ভিস কমিশন মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ করবে। এই নিয়ে ক্যাবিনেটের মঞ্জুরির জন্য বিষয়টি পাঠানো হচ্ছে। মাদ্রাসার সিলেবাস তৈরি, প্রশ্নপত্র তৈরি করে থাকে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ। এই পর্ষদ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা পর্ষদ নিয়ে এ'নও কোনও আলোচনা হয়নি, ক্যাবিনেটে আলোচনা হবে। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু জানান, আলিয়াকে উচ্চশিক্ষা দফতরের অধীনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটা খুব ভালো বিষয়। এতে পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা উচ্চ শিক্ষা দফতরের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু স্ট্যাটাস প্রসঙ্গে মন্ত্রী সরাসরি কোনও উত্তর দেননি।

তিনি বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুসারে আলিয়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই চলবে’। প্রসঙ্গত, আলিয়াকে সংখ্যালঘু স্ট্যাটাস সম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আলাদা আইন পাশ করা হয়েছিল। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্রিটিশ ভারতে সবথেকে পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৭৮০ সালে ক্যালকাটা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসেবে এখন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৬ বছরের উত্তরাধিকার রয়েছে। 

উল্লেখ্য, মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য চালু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন। বিকাশ ভবনে অবস্থিত এই দফতরের মাধ্যমেই মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ হয়ে আসছে ২০০৮ সাল থেকে। এর মধ্যে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ কমিশন করবে, না কমিটি করবে--- এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। প্রসঙ্গত, মাদ্রাসাগুলি যেহেতু সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান।

তাই সংবিধান অনুসারে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে পরিচালন সমিতির নিয়োগের এক্তিয়ার রয়েছে বলে আদালতের নির্দেশে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ শুরু হয়েছিল। কমিটির মাধ্যমে নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পুনরায় দেশের শীর্ষ আদালতে মামলা হয়। ২০২০ সালে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে পুনরায় নিয়োগ করার অধিকার দেয়। সেই অনুসারে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। 

এদিকে, ১৭৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসাকে ২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। বর্তমানে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ক্যাম্পাস রয়েছে। তালতলা (হাজি মুহাম্মদ মহসিন স্কোয়ার), পার্ক সার্কাস এবং নিউ টাউন ক্যাম্পাস। এই তিন ক্যাম্পাসে আর্টস, সায়েন্স, ধর্মতত্ত্ব, আরবি, টেকনোলজি, ম্যানেজমেন্ট এবং নার্সিং বিভাগের পঠন-পাঠন চালু রয়েছে (গবেষণা,স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)। নতুন সরকারের অধীনে আলিয়ার ভবিষ্যৎ কোনদিকে যাবে, এখন তা দেখার বিষয়।