পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে ডেঙ্গির চেনা ভিলেন এডিস ইজিপ্টাই। তবে এবার এ রাজ্যে হদিস মিলল এডিস মশার আরও একটি নতুন প্রজাতির। নাম ‘এডিস লিনিয়াটোপেনিস’। এই প্রজাতির খোঁজ মেলার পরেই সতর্ক হয়েছে রাজ্য। মশার গতিবিধির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতের কয়েকটি জায়গায় আগেই এই মশার দেখা মিলেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম।
নতুন এই প্রজাতির কারণে রাজ্যে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনই ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রোগ ছড়াতে সক্ষম এডিসের আরও একটি প্রজাতির উপস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনও কারণ নেই।’
পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই মাসের শেষ পর্যন্ত রাজ্যে মোট ছ’জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সব আক্রান্তের তথ্য জাতীয় নজরদারি পোর্টালে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই রাজ্য স্তরে নিয়মিত পর্যালোচনার বৈঠক হচ্ছে। আগামী ১৭ অগস্ট পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা। এ ছাড়াও ডেঙ্গি পরিস্থিতি নজরে রাখতে জেলাশাসকদের অধীনে জেলা স্তরে এবং বিডিওদের অধীনে ব্লক স্তরে প্রতি মাসে নিয়ম করে বৈঠক করা হচ্ছে। নতুন মশা নিয়ে এখনই কোনও আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ পতঙ্গবিদরা। তাঁরা জানিয়েছেন, ওড়িশা ও পাটনা-সহ দেশের কয়েকটি জায়গায় এই মশা আগেই মিলেছে। এ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে এদের দেখা যায়।
এই মশা মূলত বৃষ্টির জলে তৈরি হওয়া গর্ত, জলাভূমি, ঘাসে ঢাকা নিচু জমি এবং বন্যার পর জমে থাকা অস্থায়ী জলে বংশবৃদ্ধি করে। গোধূলির সময়েই এরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে সূর্যোদয়ের ঠিক আগেও এদের কামড়ানোর প্রবণতা রয়েছে। মানুষ-সহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদের রক্ত খেয়েই এরা বাঁচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকায় এই মশা ‘রিফ্টভ্যালি ফিভার’ ছড়ানোর অন্যতম বাহক হিসেবে পরিচিত। তবে ভারতে এই প্রজাতির মশা ডেঙ্গি, জিকা বা চিকুনগুনিয়া ছড়ায়, এমন কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি।