পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের পঞ্চায়েত কর্মীদের জন্য বড়সড় সুখবর দিল নবান্ন। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি এবার ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্তদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করল পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর। গত ১৮ অগস্ট এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকেই বর্ধিত এই মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হবে।
ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী যে সমস্ত পঞ্চায়েত কর্মী সংশোধিত কাঠামোয় বেতন পান, তাঁদের ক্ষেত্রে মহার্ঘ ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ শতাংশ।
শুধু কর্মরত কর্মীরাই নন, অবসরপ্রাপ্তদের কথাও মাথায় রেখেছে রাজ্য সরকার। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় যে সমস্ত প্রবীণ নাগরিকরা বর্তমানে পঞ্চায়েত দফতর থেকে পেনশন বা ফ্যামিলি পেনশন পাচ্ছেন, তাঁরাও আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩৮ শতাংশ হারেই মহার্ঘ ত্রাণ বা ডিয়ারনেস রিলিফ পাবেন। যাঁরা এখনও পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতাতেই বেতন পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও মহার্ঘ ভাতার হার একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পঞ্চম বেতন কমিশনের অধীনে থাকা পঞ্চায়েত কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা ১৭১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২২৩ শতাংশ করা হয়েছে। এই বর্ধিত হারও অক্টোবর মাসের প্রথম দিন থেকেই কার্যকর হবে। একইভাবে পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতাভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মহার্ঘ ত্রাণও বাড়িয়ে ২২৩ শতাংশ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যতদিন না তাঁদের পেনশন কাঠামো সংশোধিত হচ্ছে, ততদিন এই হারেই তাঁরা মহার্ঘ ত্রাণ পেয়ে যাবেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মহার্ঘ ভাতা বা ত্রাণের হিসাব নিকটতম টাকার অঙ্কে করা হবে।
কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পাশাপাশি পঞ্চায়েতের অধীনে কর্মরত দৈনিক চুক্তিভিত্তিক বা দিনমজুরদের কথাও এই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘যে সমস্ত দৈনিক মজুরদের পারিশ্রমিক ন্যূনতম মজুরি আইন বা অন্য কোনও সংবিধিবদ্ধ নিয়মের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, তাঁদের দৈনিক মজুরিতে আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে আরও ১১০ টাকা অ্যাড-হক বৃদ্ধি করা হবে।’ রাজ্যের অর্থ দফতরের গত ৪ অগস্ট জারি করা একটি নির্দেশিকার ভিত্তিতেই পঞ্চায়েত দফতরের এই নতুন বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়েছে। উৎসবের মরসুম শুরু হওয়ার ঠিক মুখেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত পঞ্চায়েত স্তরের হাজার হাজার কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে আর্থিকভাবে অনেকটাই স্বস্তি দেবে।