তিনটি দেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনের পর ২০১৯ সালে অবসরও নিয়েছেন। অথচ পাঞ্জাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে অতিরিক্ত নথি জমা দিতে বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন প্রবীণ কূটনীতিক নবদীপ সুরি। তাঁর দাবি, ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড দেখিয়ে ফর্ম পূরণ করার পরও পরে তাঁর নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং পাসপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
অমৃতসরের বাসিন্দা নবদীপ সুরি জানিয়েছেন, SIR-এর কাজ চলাকালীন তিনি বুথ লেভেল অফিসারের কাছে ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড দেখিয়ে প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ করেছিলেন। সেই সময় তাঁকে জানানো হয়েছিল, তাঁর নথিপত্রে কোনও সমস্যা নেই।
আরও পড়ুন:
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নবদীপ সুরি লিখেছেন, ২০০৩ সালে তিনি ভারতে ছিলেন না, বিদেশে কর্মরত ছিলেন। ফলে সেই সময়ের তথ্যের সঙ্গে তাঁর বর্তমান নথির মিল না থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর কাছে পাসপোর্ট জমা দিতে চাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
নবদীপ সুরির কূটনৈতিক পরিচয়ও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘদিন ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পাসপোর্ট ও আধার কার্ড নিয়ে অবশ্য আলাদা বিষয় রয়েছে। পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব-সহ বিভিন্ন নথি যাচাই করা হলেও পাসপোর্টকে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হয় না। একই ভাবে আধার কার্ড মূলত পরিচয় ও বসবাসের সঙ্গে সম্পর্কিত নথি; এটিও নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণপত্র নয়।
এদিকে পাঞ্জাবে বর্তমানে SIR-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে ২৫ জুন থেকে ৩ অগস্ট পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। রাজ্যের ১১৭টি বিধানসভা কেন্দ্রের খসড়া ভোটার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় কোনও আপত্তি বা সংশোধনের দাবি থাকলে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তা জানানো যাবে। ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সেই অভিযোগ ও দাবি খতিয়ে দেখার পর ১২ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।
নবদীপ সুরির অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন, পাঞ্জাব সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে প্রবীণ কূটনীতিকের ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হয়েছে এবং ২০০৩ সালের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান নথির অসঙ্গতির বিষয়টি কীভাবে দেখা হচ্ছে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।