অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়া নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের বিক্ষোভের মধ্যেই এবার পরিস্থিতির নেপথ্যে ‘অন্তর্ঘাত’-এর অভিযোগ তুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও ব্যবস্থাপনার কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে, আবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘স্যাবোটাজ’ বা অন্তর্ঘাতের চেষ্টা হয়েছে। তবে যোগ্য কোনও উপভোক্তা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রবিবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডে বিজেপির আয়োজিত ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান’ কর্মসূচিতে যোগ দেন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে চলা বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দু’-একটি জায়গায় সিস্টেমের কারণে কিছু বিচ্যুতি হয়েছে। আবার বহু জায়গায় অন্তর্ঘাতের চেষ্টাও করা হয়েছে।

কোথাও কোথাও আবেদনপত্র পূরণের ক্ষেত্রেও গাফিলতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই অন্তর্ঘাতের পিছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কারও নাম জানাননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মহিলাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের ঘটনা সামনে এসেছে। কয়েক দিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসকের দফতরেও বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, কোথাও কোথাও তৃণমূলের লোকজন ভিতরে বসে অশান্তিতে উস্কানি দিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে বিরোধীদের ভূমিকা নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, সমস্যা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, খুব শীঘ্রই আরও প্রায় ৫০ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আসতে পারেন। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, যোগ্য কোনও মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর মতে, বছরে ৩৬ হাজার টাকা কোনও ছোট অঙ্ক নয়।

তাই প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের কাছেই পৌঁছয়, তার জন্য আবেদনকারীদের তালিকা যাচাই বা স্ক্রিনিং করা প্রয়োজন। আগের সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও এ প্রসঙ্গে তোলেন তিনি।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন। প্রয়োজনে আরও ২০ থেকে ৩০ লক্ষ মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। সেই সংখ্যাই আরও বাড়তে পারে বলে রবিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন শমীক।
অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ অব্যাহত, তখন বিজেপি নেতৃত্বের এই আশ্বাসে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয়, এখন সেদিকেই নজর।