পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, ফেলে দেওয়া জিনিসও যে সৌন্দর্যের উপকরণ হয়ে উঠতে পারে, তারই নজরকাড়া উদাহরণ তৈরি হয়েছে শ্রীনগরের বিখ্যাত পোলো গ্রাউন্ড পার্কে। পুরনো টায়ার, শুকনো কাঠ, নষ্ট বৈদ্যুতিক কেটলি, লোহার জিনিস এমনকি বাতিল যানবাহন—সবকিছুকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে একটি অভিনব ‘ওয়েস্ট ওয়ান্ডার গার্ডেন’।
আরও পড়ুন:
এই উদ্যোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক, এর জন্য বাজার থেকে নতুন করে কোনও জিনিস কেনা হয়নি। বিভিন্ন সরকারি দফতর ও কাশ্মীরের বিভিন্ন বাগানে পড়ে থাকা বাতিল সামগ্রী সংগ্রহ করেই তৈরি হয়েছে পার্কের সাজসজ্জা।
বর্তমানে সেখানে ৩৫টিরও বেশি নানা ধরনের ইনস্টলেশন রয়েছে।আরও পড়ুন:
শুকনো গাছের ডাল দিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট্ট খেলনা ট্রেন। পুরনো টায়ার কেটে বানানো হয়েছে ফুলের টব। নষ্ট হয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক কেটলিকে ব্যবহার করা হয়েছে ফুলদানি হিসেবে।
শিশুদের আকৃষ্ট করতে তৈরি হয়েছে মাকড়সা ও শুঁয়োপোকার মতো বিভিন্ন আকৃতির ভাস্কর্য। পুরনো চাকা, কাঠের গুঁড়ি, বাতিল খুঁটি এবং যানবাহনের অংশও জায়গা পেয়েছে এই বাগানে।আরও পড়ুন:
কাশ্মীরের ফ্লোরিকালচার বিভাগের ডিরেক্টর মাতুরা মাসুম ও তাঁর দলের উদ্যোগেই এই প্রকল্প তৈরি হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য, ফেলে দেওয়ার বদলে পুরনো জিনিস পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা।
নিশাত, শালিমার, পহেলগাম ও বারামুলার বিভিন্ন বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বহু সামগ্রী।আরও পড়ুন:
শুধু পার্কেই নয়, কাশ্মীরে বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের হস্তশিল্পও তৈরি হচ্ছে। ডাল লেক পরিষ্কার করার সময় উঠে আসা জলজ আগাছা ও ঘাস ব্যবহার করে পেপার-ম্যাশের শিল্পকর্ম তৈরি করছেন শিল্পী সিমরন। শুকিয়ে নেওয়া ওই উদ্ভিদকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাল্পে পরিণত করে তার সঙ্গে পুনর্ব্যবহৃত কাগজ মেশানো হচ্ছে। তৈরি হচ্ছে তুলনামূলক শক্ত ও টেকসই উপকরণ, যা দিয়ে বাড়ি সাজানোর সামগ্রী ও নানা হস্তশিল্প তৈরি করছেন তিনি। শ্রীনগরের এই উদ্যোগ তাই শুধু শহরের সৌন্দর্য বাড়াচ্ছে না, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পুরনো জিনিসের পুনর্ব্যবহারের বার্তাও দিচ্ছে।