উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: আধুনিকতার দাপটে গ্রাম বাংলা থেকে একপ্রকার হারিয়ে যেতে বসেছে গরুর ‘মই ছাড়া’ দৌড় প্রতিযোগিতা। সেই পুরনো লোকঐতিহ্যকেই ফের একবার সামনে নিয়ে এল সুন্দরবনের কুলতলি।জালাবেড়িয়া –১ গ্রাম পঞ্চায়েতের পালেরচক গ্রামে রবিবার ও সোমবার দু’দিন ধরে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী ‘মই ছাড়া’ বা গরুর দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে দুই দিন ধরেই এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।
এই প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার কৃষিজীবী মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাস।

একসময় গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের প্রতিযোগিতা অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।কুলতলির পালের চকের এই আয়োজন তাই পুরনো সেই স্মৃতিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনল।কৃষিজীবী মানুষের জীবনে গবাদি পশুর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ভালো ফসলের আশায় এবং কৃষি কাজের সঙ্গে গবাদি পশুর নিবিড় সম্পর্ককে স্মরণ করেই গ্রামবাংলার বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হত। সেই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেই পালেরচকে এবারও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
সুন্দরবন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গ্রামবাংলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গরুর মালিকেরা তাঁদের প্রশিক্ষিত গরু নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। প্রতিযোগিতার আগে থেকেই অংশগ্রহণকারী গরু গুলিকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়। মালিকদের মধ্যেও ছিল জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
রবিবার থেকেইপ্রতিযোগিতাকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয় উৎসবের আবহ। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষই ঐতিহ্যবাহী এই দৌড় দেখতে ভিড় জমান।
সোমবার ও সেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সুন্দরবন সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ পালেরচকে হাজির হন এই গ্রামীণ ক্রীড়া ও লোক ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করতে একাধিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও করা হয়।প্রতিযোগিতা ঘিরে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসা গ্রাম বাংলার এমন লোকসংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত এই ধরনের আয়োজন প্রয়োজন। কারণ ‘মই ছাড়া’ দৌড় শুধুমাত্র গরুর দৌড় নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার কৃষিজীবন, গ্রামীণ সংস্কৃতি এবং মানুষের বহু পুরনো স্মৃতি।