পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজস্থানের জয়পুরে সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে গ্রামবাসীদের একাংশের হাতে আক্রান্ত হলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিনিধিরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষই পুলিশের কাছে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতেই আলাদা এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে গত শুক্রবার, ২১ অগস্ট জয়পুরের রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামে পৌঁছয় সিজেপি-র যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বাধীন একটি দল। সিজেপি প্রতিনিধি রেখা শর্মার অভিযোগ, একটি গোয়ালঘরে স্কুল চলার খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।
কিন্তু গ্রামে ঢোকার আগেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। এরপর তাঁরা হাঁটতে শুরু করলে লালচাঁদ শর্মা নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁদের গালিগালাজ করে এবং ইট, পাথর ও লাঠি দিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলায় সঞ্জু বর্মা নামে এক প্রতিনিধির হাত ভেঙে যায় এবং সলমন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় জয়পুরের শিবদাসপুরা থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, ভগবান সহায় ধানকা নামের এক গ্রামবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সিজেপি প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তফসিলি জাতি ও জনজাতি আইনে পালটা এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
ওই গ্রামবাসীর দাবি, পঞ্চাশ-ষাট জনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামে ঢুকে স্কুল পরিদর্শনের নামে সিজেপি প্রতিনিধিরা গ্রামবাসীদের ও মহিলাদের কটূক্তি করেন। প্রতিবাদ করলে তাঁরা জাতপাত তুলে গালিগালাজ এবং মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ।এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার যোধপুরের গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠানে সিজেপি-র একটি সেমিনার ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, সেখানে কয়েকজন জড়ো হয়ে 'জয় শ্রীরাম' এবং 'ককরোচ দূর হটো' স্লোগান দিতে থাকেন এবং একজনকে আক্রমণ করেন। যোধপুরের ডিসিপি মনীশ কুমার চৌধরী জানিয়েছেন, খবর পেয়েই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১১ জনকে আটক করে। তবে ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।